ফ্ল্যাট থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ
গোপালগঞ্জ শহরের মিয়াপাড়া শরীফ লিটন সড়কের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে আল আমিন (৩৫) নামে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২০ মে) রাত ১১টার দিকে শহরের রবিউল ইসলাম তুহিন নামের এক ব্যক্তির বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আল আমিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ফায়েক শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে ফ্ল্যাটটি থেকে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে কামরুল নামের এক রিকশার গ্যারেজ মালিক বসবাস করতেন। কামরুল ওই বাড়ির মালিকের মামা এবং বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহতের মা আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে কামরুলের রিকশা ভাড়ায় চালাত। গত ১৮ মে সোমবার ভোরবেলা রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফেরেনি। বুধবার বিকেলে কামরুল আমাদের বাড়িতে গিয়ে বলে, তোমার ছেলেকে ধরে এনে আটকে রেখেছি, তুমি আমার সাথে আসো। আমি তার সাথে ওই ফ্ল্যাটে এসে আমার ছেলের মরদেহ দেখতে পাই। এরপরই কামরুল আমাকে সেখানে রেখে পালিয়ে যায়।
একই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া লিমা বেগম জানান, রাতে হঠাৎ ওপর থেকে কান্নাকাটি ও চিৎকারের আওয়াজ শুনে তিনি দোতলায় যান। সেখানে নিহতের মাকে কাঁদতে দেখেন এবং পাশে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাড়ির মালিক ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক রবিউল ইসলাম তুহিন জানান, তিনি তিন বছর আগে বাড়িটি কিনেছেন। নিজে সেখানে থাকেন না, সবগুলো ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া। তার মামা কামরুল হাসান একটি ফ্ল্যাটে থেকে বাড়িটি দেখাশোনা করতেন এবং ভাড়া তুলে পাঠাতেন। পুলিশের মাধ্যমেই তিনি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ জিয়াউল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সিআইডি, পিবিআইসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

মাসুদ পারভেজ, গোপালগঞ্জ