যেসব কারণে মমতার দলের ভরাডুবি
১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গেরুয়া শিবির ২০০টি আসনে এগিয়ে থেকে ঐতিহাসিক জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, গত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস ৮৭টি আসনে নেমে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তৃণমূলের এই শোচনীয় পরাজয়ের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন :
আরজি কর ইস্যু ও জেন-জিদের ক্ষোভ
আরজি কর মেডিকেল কলেজে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তৃণমূল সরকারের ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এই ঘটনা নারী ও তরুণ প্রজন্মকে (জেন-জি ও জেন-এক্স) তৃণমূলের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করেছে। পানিহাটি আসন থেকে নির্যাতিতার মাকে বিজেপির প্রার্থী করাও তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্নীতি ও ‘কাট-মানি’ সংস্কৃতি
তৃণমূলের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দুর্নীতি, মাস্তানি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা (কাট-মানি) আদায়ের কারণে সাধারণ মানুষ দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জীর ঘনিষ্ঠজনের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় মমতা ব্যানার্জীর নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে।
ভুল নির্বাচনি কৌশল ও তোষণের অভিযোগ
মমতা ব্যানার্জী বারবার বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ দল বলে আক্রমণ করলেও, বিজেপি সেই কথায় কান না দিয়ে উল্টো স্থানীয় দুর্নীতি ও সরকারের ব্যর্থতাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ও নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা হিন্দু ভোটারদের বড় একটি অংশকে নিজেদের পক্ষে আনতে সফল হয়েছে।
বিজেপির নাগরিকত্ব কার্ড
মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব নিয়ে তৃণমূলের প্রচারণাকে কাউন্টার দিতে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা নাগরিকত্ব পাবেন। এতে দলটির প্রতি মতুয়া ভোটারদের সমর্থন সুসংহত হয়েছে।
মমতা ব্যানার্জীর প্রতিক্রিয়া
পরাজয়ের আভাস স্পষ্ট হলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এখনও হাল ছাড়তে নারাজ। দলীয় কর্মীদের মনোবল না হারানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা চলছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘বিজেপির ভোটই প্রথমে দেখানো হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সূর্যাস্তের পর এবং গণনার শেষ দিকের পর্বগুলোতে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।’ তিনি গণনাকারী এজেন্টদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্ট্রং রুমে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি ২১০টিরও বেশি আসনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক