যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৯
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত তিন সপ্তাহের বর্ধিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এ হামলার ঘটনা ঘটল।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, জেবচিট এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ৩ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া তৌল এলাকায় হামলায় আরও ৪ জন নিহত ও ৬ জন আহত হন। হারুফে পৃথক হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন এবং একটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা আরও তীব্র হয়েছে। জাওতার আল-শারকিয়াহ, ইয়োহমর আল-শাকিফ এবং বায়ত আল-সাইয়্যাদ এলাকায় গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিমান হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুটি পরিবারের সদস্য, দুই লেবানিজ সেনা ও তিনজন প্যারামেডিক রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ জন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জেবচিট, তৌল, আল-সামানিয়েহ, সাহেল আল-হানিয়েহ, ক্লাইলাহ, ওয়াদি জিলোসহ অন্তত ১৫টি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ও গ্রামে নতুন করে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের পরিণতি গাজার মতো হবে।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেপ আউন ইসরায়েলের অব্যাহত লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও বেসামরিক স্থাপনা, উপাসনালয় ধ্বংস এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি ইসরায়েলি হামলার তদন্তে দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৭৬ জন নিহত এবং ৭৯৬২ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক