খাবার কম পাচ্ছে মার্কিন সেনারা, অস্ত্রের ভাণ্ডারও ফুরিয়ে আসছে!
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় মাসের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের মধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও রসদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে রণতরীগুলোতে মার্কিন সেনাদের খাদ্যসংকটের খবর, অন্যদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় দেশটির অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে ফুরিয়ে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ফ্রান্স২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজগুলোতে মার্কিন নাবিক ও সেনারা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন না। তারা ‘সারাক্ষণ ক্ষুধার্ত’ থাকছেন।
মার্কিন সংবাদপত্র ইউএসএ টুডে-তে প্রকাশিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা গেছে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নামমাত্র খাবার পাচ্ছেন নাবিকরা। থালায় সামান্য সেদ্ধ গাজর, একটি শুকনো মাংসের প্যাটি ও টরটিলা র্যাপের মতো সামান্য খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছবিগুলো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস ত্রিপোলি যুদ্ধজাহাজ থেকে নৌ-কর্মকর্তারা তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন।
আরও পড়ুন : হরমুজ প্রণালিতে ‘সামুদ্রিক বোমা’ পেতে রেখেছে ইরান, সরাতে লাগবে ৬ মাস
আরও পড়ুন : আলোচনার পথে তিন বাধার কথা জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ভুক্তভোগী এক মেরিন সেনার বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে। আপনাদের খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার কথা নয়। জাহাজগুলোতে তাজা শাকসবজি বা ফলমূল নেই। এমনকি সাবান-টুথপেস্টের মতো হাইজিন পণ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। সেনা সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার পাঠানোর চেষ্টা করলেও মধ্যপ্রাচ্যে ডাক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেগুলো পৌঁছাতে পারছে না।
যদিও ওয়াশিংটন এই অভিযোগগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এসব খবরকে ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া সংবাদ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইউএসএস ত্রিপোলি ও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন- উভয় জাহাজে এক মাসেরও বেশি সময়ের ‘ক্লাস-১’ খাদ্য সরবরাহ মজুত রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীও কিছু ছবি শেয়ার করে দাবি করেছে, নাবিকদের জন্য ‘তাজা খাবার’ ও ‘ফুল সার্ভিস’ অব্যাহত রয়েছে। সেখানে কোনো খবার রেশনিং (অভাবের সময় অল্প খাবার সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া) করা হচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী নৌ-অবরোধ ও রসদ সরবরাহে জটিলতার কারণে এই ধরনের গুঞ্জন বা সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আরও পড়ুন : এবার নৌমন্ত্রীকে সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প, প্রশাসনে বড় রদবদল
এদিকে খাদ্য সংকটের মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের’ (সিএসআইএস) বিশ্লেষণের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা মার্কিন গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। মোট মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষার অত্যন্ত শক্তিশালী ‘থাড সিস্টেম’ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেছে। লক্ষ্যভেদী ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ ক্ষেপণাস্ত্রের ৪৫ শতাংশেরও বেশি মজুত শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাপক হারে এই ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টরগুলো ব্যবহার করতে হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চললে পেন্টাগন বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুত ফুরিয়ে আসায় প্রতিরক্ষা শিল্পকে সমরাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে যে সময় ও অর্থের প্রয়োজন হয়, তা বর্তমান ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয়। সূত্র : ফ্রান্স২৪ ও মিডল ইস্ট আই

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক