চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য নতুন শান্তি আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই অবরোধ ‘ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে’ এবং এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে’। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা। তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা আদৌ হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠককে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও ওয়াশিংটন ত্যাগ করেননি। অন্যদিকে, ইরানও এখনও আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৭টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) প্রথমবারের মতো একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজও আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই জাহাজটি অবরোধ অমান্য করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে মার্কিন বাহিনী তা থামিয়ে জাহাজটি জব্দ করে।
এ ঘটনাকে ইরান ‘জলদস্যুতা’ এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানও প্রায় দুই মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব অবরোধ বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্বল্প সময়ের জন্য প্রণালিটি খুলে দেওয়া হলেও দ্রুতই আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ, ওই এলাকায় ট্যাংকারসহ একাধিক জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ হয়নি। পাকিস্তান জোর চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে।
বিবিসির আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক লিস ডুসে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও আলোচনার সম্ভাবনা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
তার ভাষায়, কূটনীতির একটি নিয়ম হলো কেউই আলোচনার ভাঙনের দায় নিতে চায় না। যদি জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে উপস্থিত হন, তাহলে ইরানের জন্য সেখানে না যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে ইসলামাবাদের হোটেলগুলোতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের আগমনের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক