মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখা ও যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এপ্রিলের শেষ নাগাদ এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। খবর আল জাজিরার।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় হাজার সেনা বহনকারী বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ ও এর সহযোগী জাহাজগুলো এই অঞ্চলে পৌঁছাবে। এর পাশাপাশি ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ ও ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও চার হাজার ২০০ মেরিন সৈন্য মাসের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ওপর ঘোষিত নৌ অবরোধ এখন ‘সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত’। তাদের দাবি, সমুদ্রপথে ইরানের যাবতীয় অর্থনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, মার্কিন কড়াকড়ি সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
এত সৈন্য মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে ও একই সঙ্গে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, প্রথম দফার আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলেও আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সৈন্য এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চললেও এর মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক