যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য হুমকি বহাল থাকলে চুক্তির সম্ভাবনা ‘খুবই ক্ষীণ’
ইসলামাবাদে চলমান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জনসমক্ষে ইরানকে যে ধরনের ‘চরমপত্র’ বা হুমকি দিচ্ছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও যদি তাদের সুর একই থাকে, তবে কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারিসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে, তবে ইরান অনুভব করবে যে যুদ্ধের আগের তুলনায় তারা এখন আর সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধে ইরানই মূলত ‘আসল ক্ষতিগ্রস্ত’। তবে এই ক্ষতি সামরিক সামর্থ্যের চেয়েও বেশি হয়েছে জানমালের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে।
হ্যারিসনের মতে, ইরানের সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধের চরম মূল্য দিয়েছে। তাই তারা কেবল ‘যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে’ ফিরে যাওয়ার জন্য এই চুক্তিতে রাজি হবে না। তারা এর চেয়ে স্থায়ী ও সম্মানজনক কিছু প্রত্যাশা করছে।
হ্যারিসন আরও বলেন, ‘প্রকাশ্যে আমরা যা দেখছি, গোপনেও যদি একই তিক্ততা চলে, তবে সামনে এগোনোর পথ খুবই সরু।’ তবে তিনি একটি আশার কথা শুনিয়েছেন। অনেক সময় জনসমক্ষে কঠোর অবস্থান দেখানো হয় কেবল ‘লোকদেখানো’ কৌশল হিসেবে। যদি পর্দার আড়ালে প্রকৃত ও গঠনমূলক আলোচনা হয়ে থাকে, তবেই কেবল শুভ কিছুর আশা করা যায়।
প্রকৃতপক্ষে আলোচনার টেবিলে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তা হয়তো আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক