যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে ‘কঠোর হুঁশিয়ারি’ ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে হিংস্র (কঠোর) প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তেহরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘সীমিত হামলার’ হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ সংঘাতের সৃষ্টি করবে।
ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন যুদ্ধবাজ বক্তব্য সামনে এলো।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, কোনো বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই আগামী বৃহস্পতিবার এই আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও চাপের মুখে ইরানের ভেতরেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মাধ্যমে নতুন বিক্ষোভ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের স্লোগানগুলো আবারও পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে এবং তারা মারাত্মক দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছে।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ইরান যদি চুক্তি না করে তবে তিনি সীমিত হামলার কথা ভাবছেন। তবে তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেকোনো হামলা, এমনকি তা সীমিত হলেও ‘আগ্রাসনের কাজ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, যেকোনো রাষ্ট্র আগ্রাসনের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ও ইরানও তাই করবে।
ইরান জানিয়েছে তারা আগামী দিনে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পারমাণবিক খসড়া প্রস্তাব জমা দিতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ১৫ দিন সময়সীমার মধ্যে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শেষ হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাদি বলেছেন, বৃহস্পতিবারের আলোচনা সুযোগের একটি নতুন জানালা হতে পারে, তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন- আক্রমণ করা হলে তার পরিণতি কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এই সংঘাতের ঝুঁকি ইরানে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সোমবার ভারত, সুইডেন, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে তাদের দূতাবাস ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংসদে বলেছেন, ইরান আক্রমণ করলে এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়া হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ইরান এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, এই সুযোগটি কাজে লাগানো উচিত।
এর মধ্যেই তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা পুড়িয়ে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন’ স্লোগান দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক