যুক্তরাষ্ট্র ‘পরীক্ষা’ নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান : আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তাহলে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ইরান। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, চলমান অস্থিরতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তা খোলা আছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ‘সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত’ এবং গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি ও বিস্তৃত।
এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিক্ষোভ দমনে দেশটির নেতৃত্বের ভূমিকার কারণে ওয়াশিংটন ‘শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিক্ষোভ এখন রাজনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বৈঠকের আগেই পরিস্থিতির কারণে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’
এ বিষয়ে আরাঘচি বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি সামরিক বিকল্প পরীক্ষা করতে চায়—আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপের ‘বুদ্ধিমান পথ’ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে।
সাক্ষাৎকারে ইরানে প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আরাঘচি বলেন, ‘সন্ত্রাসী উপাদান’ বিক্ষোভকারীদের ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরান সরকার গত দুই সপ্তাহের অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
আরও পড়ুন : ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক দিনে ১০০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এদিকে বিরোধী পক্ষের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছেন। আল জাজিরা এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। নেটব্লকস জানায়, সোমবার পর্যন্ত টানা ৯৬ ঘণ্টা দেশটি কার্যত অফলাইনে ছিল। আরাঘচি জানান, নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হবে।
আরাঘচি আরও বলেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিক্ষোভের আগে ও পরেও অব্যাহত রয়েছে এবং এখনো চলছে। তবে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ও হুমকি তেহরানের কাছে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাঘচি বলেন, ‘হুমকি ও চাপমুক্ত পরিবেশে আমরা পারমাণবিক আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত’। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ‘ন্যায্য ও সমান আলোচনার’ জন্য প্রস্তুত?
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েল ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে। তিনি ওয়াশিংটনকে ভুল হিসাব না করার আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট দাবি করেছেন, প্রকাশ্যে ও গোপনে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সামরিক হামলার কথা ভাবছে, অন্যদিকে ইরানের সামরিক আলোচনার প্রস্তাবও বিবেচনা করছে।
গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক