সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সে সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
সাভার উপজেলা পরিষদে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে তার ওপর নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত সাংবাদিকের নাম দিদারুল ইসলাম। তিনি ঢাকা টুডের স্টাফ রিপোর্টার। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ও তিনি।
সংঘবদ্ধ হামলার শিকার সাংবাদিক দিদারুল ইসলামকে গুরুতর অবস্থায় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনের পাশাপাশি ক্যামেরা ভাঙচুর, মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া, মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে দেবার অভিযোগ করেছেন তিনি।
দিদারুল ইসলামের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তে কথিত অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার রাতে তিনি উপজেলা পরিষদে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন বা ব্যয় সংকোচন নীতির বিপরীতে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), ফ্যান ও লাইট চালিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের খেলা দেখছেন সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল আমিন ও আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের ইঙ্গিতে তাকে জোরপূর্বক আটকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
মারধর ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, তথ্য ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট মুছে ফেলা হয়। এছাড়া জোরপূর্বক একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করানোর পাশাপাশি ঘটনাটি প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদাসহ অপর দুই সাংবাদিক খবর পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে দিদারুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশের পরামর্শে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকেই সাংবাদিককে আটকে মারধর করার বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শারীরিক নির্যাতন ও মারধরে গুরুতর আহত সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাহিদুর রহমান