ইরানে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ব্যাপক বিক্ষোভে ইরান সরকার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ায় বিমান হামলাসহ বিভিন্ন ‘বিকল্প’ বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, কূটনীতি সবসময়ই ‘প্রথম পছন্দ’, তবে সামরিক হামলাও ‘টেবিলে রয়েছে’। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় তার সব বিকল্প খোলা রাখেন। কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বিমান হামলাও বহু বিকল্পের একটি। খবর আল জাজিরার।
ইরানজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধী কর্মীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
গত জুনে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দেন। তিনি এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্য না আনলে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানকে সামনে রেখে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা তুলছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে। ট্রাম্প অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।
এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। অজ্ঞাত মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ বা কম কঠোর বিকল্প বিবেচনার পক্ষে মত দিচ্ছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘ফোন করেছে’ এবং ‘আলোচনা করতে চায়’।
এ বিষয়ে ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা প্রকাশ্যে যা বলছে, প্রশাসন ব্যক্তিগতভাবে যে বার্তা পাচ্ছে তা একেবারেই ভিন্ন। তিনি আরও যোগ করেন, প্রয়োজনে সামরিক বিকল্প ব্যবহারে প্রেসিডেন্ট যে দ্বিধা করেন না, তা ইরান ভালো করেই জানে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক