ইরানে হামলায় বিভক্ত রিপাবলিকানরা, ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ
ইরানে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অধিকাংশ নেতা। দলটির অনেক নেতাই হামলাকে সমর্থন করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছেন। যদিও ‘ম্যাগা’ আন্দোলনের একটি অংশ যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান আজ তাদের খারাপ কর্মকাণ্ডের কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করেছিল।
রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পপন্থী কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইনও হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের পাশে আছি।
এদিকে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাকেও অনেক রিপাবলিকান নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। সিনেটর বার্নি মোরেনো মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ‘ডেথ টু আমেরিকা’কে ‘ডেথ বাই আমেরিকা’তে পরিণত করেছেন।
তবে রিপাবলিকান দলে কিছু সীমিত বিরোধিতাও দেখা গেছে। কংগ্রেসম্যান টম ম্যাসি এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে বলেন, আমি এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। এটি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নয়। তিনি ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার জন্য কংগ্রেসে বিল আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না, যা নতুন যুদ্ধের কারণ হতে পারে।
তবে কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা হামলায় খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়েছেন। সিনেটর জন ফেটারম্যান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাস্তব শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত হয়েছেন।
ইরানে হামলার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক