ইরানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ, বাড়ছে বিক্ষোভ ও সহিংসতা
ইরানে ধর্মীয় নেতৃত্বে বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের চ্যালেঞ্জ আরও জোরদার হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। সংঘাত ও সরকারি দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীদের তেহরানের বাজার বন্ধ রাখার মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল তা এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের বিক্ষোভের মাধ্যমে সরকারবিরোধী এই আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
এই বিক্ষোভ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দেশটির অর্থনীতি চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের কর্তৃপক্ষ যদি ‘মানুষ হত্যা শুরু করে’ তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন তাদের ওপর ‘খুব জোরালো আঘাত’ হানবে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ তোলার পর ট্রাম্পের এই বার্তা আসে। নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা 'ইরান হিউম্যান রাইটস' (আইএইচআর) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে।
এনজিওটি আরও জানায়, বুধবার ছিল বিক্ষোভের রক্তক্ষয়ী দিন, এদিন অন্তত ১৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আইএইচআর-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, বিভিন্ন প্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, দমন-পীড়নের মাত্রা দিন দিন আরও সহিংস এবং ব্যাপক আকার ধারণ করছে। তিনি আরও জানান, সহিংসতায় কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। বুধবার তেহরানের পশ্চিমে সহিংস বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে একজন ইরানি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি।
দমন-পীড়ন চলতে থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতেও ফের বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে বহু মানুষ একত্রিত হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ছবিতে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবাদানেও জনতাকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অনলাইন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, লাইভ মেট্রিক্স দেখাচ্ছে ইরান এখন দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক