ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া’ হুমকির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চায় ইরান
ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘অবৈধ ও বেপরোয়া’ হুমকির নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে এসব মন্তব্যের কঠোর নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
চিঠিতে বলা হয়, ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়া, উৎসাহিত করা কিংবা বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা ইরানের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন।’
ইরাভানি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব ‘অবৈধ হুমকি’ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের বক্তব্য থেকে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’—অর্থাৎ যেকোনো সময় সামরিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, শুক্রবারও ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। কুম, মারভদাস্ত, ইয়াসুজ, মাশহাদ ও হামেদান ছাড়াও তেহরানের তেহরানপার্স ও খাক সেফিদ এলাকায় মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়।
গত রোববার তেহরানের দোকানদাররা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে ধর্মঘটে নামার পর থেকেই দেশজুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত এবং ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুম প্রদেশের উপগভর্নর জানান, বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টায় হাতে গ্রেনেড বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ধ্বংসের শামিল হবে।’
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট—মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি খরার প্রভাব—জনজীবনে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এবারের বিক্ষোভে ইরানি নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারও দায়ী এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যাকে ট্রাম্প ‘খুব সফল অভিযান‘ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক কর্মসূচি এগিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর জবাব‘ দেবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক