বছরের শুরুতে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
বছরের শুরুতেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে দাম কিছুটা কমলেও নতুন বছরের নিরাপদ বিনিয়োগের এই মাধ্যমটি বিনিয়োগকারীদের আস্থার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমানোর জোরালো আশায় বিনিয়োগকারীরা আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
শুক্রবারেই (২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ৩৮৭ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ চার ৫৪৯ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছেছিল। বছরের শুরুতে এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালেও স্বর্ণের বাজার অত্যন্ত শক্তিশালী থাকবে।
কেন বাড়ছে স্বর্ণের দাম?
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ কিনতে উৎসাহিত করছে।
বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন এ বছর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত দুবার সুদের হার কমাবে। সুদের হার কমলে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদের আকর্ষণ বেড়ে যায়। এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভ শক্তিশালী করতে রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ ক্রয় অব্যাহত রেখেছে।
ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো মনে করেন, ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই বছরে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। মার্কিন অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উদ্বেগ স্বর্ণের সমর্থন বজায় রাখবে।’
শুধু স্বর্ণ নয়, বছরের শুরুতে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ হাজার বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড গড়েছিল।
বাজার বিশ্লেষক লুকমান ওতুনুগা মনে করেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে কিছুটা স্থবিরতা ছিল। তবে ২০২৬ সালের শুরুটা হয়েছে বেশ ইতিবাচক, যা নতুন বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়ের নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক