সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস
মেঘের রাজ্য হিসেবে পরিচিত রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালি পর্যটকদের জন্য এক অসাধারণ বিনোদন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ স্থান রুইলুই পাড়া ও কংলাক পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যোদয় দেখার জন্য এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্পট (স্থান)।
এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও অঞ্চল থেকে ছুটে আসছে ভ্রমণ পিপাসুরা। পর্যটকরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্পের এসকর্ট এবং পুলিশের প্রহরায় নিরাপত্তা বহরের সময় মেনে নির্দিষ্ট সময়ে সাজেকে প্রবেশ করছে এবং যথা সময়ে ফিরে আসছে। রাঙামাটি জেলার মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত হেলিপ্যাড ভিউপয়েন্ট থেকে সাজেকের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত চূড়া মেঘের খেলা ও চারপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে আনন্দে উদ্বেলিত পর্যটকরা।
গাইবান্ধা জেলা থেকে সাজেকের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে আসা স্কুল শিক্ষক মেহেদী হাসান মেঘের খেলা ও পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, প্রত্যাশা ও কল্পনার চেয়ে এখানকার সৌন্দর্য অনেক অনেক বেশি। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসা পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ করার জন্য পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সরুপথ প্রশস্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে চাঁদের গাড়ি বা জিপে অথবা মোটরসাইকেল রিজার্ভ করে সাজেক ভ্যালিতে আসা পর্যটকদের জন্য এক অফুরন্ত ভ্রমণ কেন্দ্র। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রুইলুই পাড়া ও কংলাক পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যোদয় দেখার জন্য ভ্রমণে আসছেন পর্যটকরা। সে কারণে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বগুড়া থেকে সাজেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম বাসস’কে বলেন, দেশে এত সুন্দর একটা পর্যটন কেন্দ্র আছে, এটি চোখে না দেখলে বুঝতে পারতাম না। এখানে আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে, তার পরেও অনেক ভালো লেগেছে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে ভালো হতো।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাজেকে পর্যটকদের জন্য প্রধান আতঙ্ক হলো পাহাড় ধস এবং অতিবর্ষণে পাহাড়ি ঢলে সড়ক ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। যার ফলে প্রায়ই পর্যটকেরা সেখানে আটকা পড়েন। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতাও পর্যটকদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করে। তবে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের জোরালো ভূমিকায় সেখানে পরিস্থিতি শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্প্রতি সাজেক ভ্যালি এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সেখানে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার জন্য বেশ কিছু হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে স্থানীয় বিক্রেতারা।
এ প্রসঙ্গে পর্যটক আরিফ হোসেন বলেন, এখানে থাকা ও খাওয়া খরচ বাবদ একজনের প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা খরচ হয়। পরিবারসহ আসলে খরচ একটু বেশি। সে কারণে অনেকের পক্ষে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালির চোখ জুড়ানো মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হয় না।
তবে প্রিয়জনদের নিয়ে আনন্দ ও উদ্দীপনায় সাজেকে এসে প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে তিনি খুবই খুশি বলে জানান।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)