স্বামীকে ছাড়াই মধুচন্দ্রিমা!
বিয়ের পরপরই নবদম্পতিরা একান্তে সময় কাটাতে বা শুধু দুজন মিলে ঘোরার জন্য বেরিয়ে পড়েন। এরই নাম হানিমুন বা মধুচন্দ্রিমা। অনেকে দেশের ভেতর ঘুরতেই পছন্দ করেন, কারো আর্থিক সংগতি না থাকায় দেশের ভেতরেই ঘুরতে যেতে হয়। আর যাঁদের আর্থিক সংগতি আছে, তাঁরা চেষ্টা করেন বিদেশের সুন্দর কোনো জায়গায় বিশেষ সময়গুলো কাটানোর।
কিন্তু বিদেশে যেতে হলে অনুমতি বা ভিসা নিতে হয়। কেমন হয় যদি স্ত্রী ভিসা পেয়ে যান আর স্বামী না পান? হুমা মবিন ও আর্সালান সেভেরের ঘটনাটা এ রকমই। পাকিস্তানি এই নবদম্পতি মধুচন্দ্রিমার জন্য গ্রিসে যেতে চেয়েছিলেন। সে জন্য ভিসার আবেদনও করেছিলেন। হুমা ভিসা পেয়ে গেলেও গ্রিক সীমান্তে পৌঁছানোর পর গ্রিসে ঢোকার জন্য ভিসা পাননি হুমার স্বামী আর্সালান।

কিন্তু গ্রিসে ঘোরার জন্য আগে থেকেই সব জায়গায় অগ্রিম টাকা দিয়ে বুকিং করে রেখেছিলেন তাঁরা। ফলে হুমা তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে ঢুকে পড়েন গ্রিসে। সেখানে সব পছন্দের জায়গায় ঘুরে মন খারাপ করে ছবি তুলেছেন। হাত দিয়ে পাশে না থাকা স্বামীর অনুপস্থিতি বুঝিয়েছেন। আর এসব ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। হুমার এসব ছবি ও এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।
অবশ্য এ রকম একা একা ঘুরতে গিয়ে মন খারাপ করা ছবি তাঁরা আগেও তুলেছেন। বাগদানের পরপরই আর্সালান কাজের জন্য গিয়েছিলেন হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। কিন্তু সঙ্গে যেতে পারেননি হুমা। তাই আর্সালানও এ রকম একা একা মন খারাপ করা ছবি তুলে পাঠিয়েছিলেন হুমাকে।

বিবিসির প্রতিবেদককে হুমা বলেন, ‘যখনই আমাদের কেউ একা ঘুরতে যাই, তখন আমরা এ রকম মন খারাপ করা পোজ দিয়ে ছবি তুলি। ছবি দিয়ে আমরা বোঝাতে চা্ই যে আমরা একা একা কোথাও ঘুরতে যেতে চাই না।’
হুমার এসব ছবি তুলে দিয়েছেন তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি। হুমা জানান, শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক। মধুচন্দ্রিমায় স্বামীকে মিস করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ওকে ছাড়া আসতে চাইনি। ও-ই আমাকে জোর করে পাঠিয়েছে। ওকে ছাড়া কোথাও ঘুরে মজা পাই না।’
গ্রিস ঘুরে এসে এখন লাহোরে রয়েছেন হুমা। স্বামী আর্সালানকে নিয়ে প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে আবার গ্রিসে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।


ফিচার ডেস্ক