হ্যাটট্রিকের পর হাজার গোলের আরও কাছে রোনালদো
বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা যেন প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সেও মাঠের পারফরম্যান্সে এতটুকু ভাটা নেই পর্তুগিজ মহাতারকার। সৌদি প্রো লিগে গোলবন্যার ম্যাচে আল খোলুদের বিপক্ষে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আল নাসর। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রোনালদোর। ম্যাচে পাঁচবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় দুটি গোল। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তিনি।
৩০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) আল খোলুদের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। বাঁ পায়ের শটে একটি গোল, হেডে দ্বিতীয়টি এবং ডান পায়ের শটে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। মাত্র ১৬ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৬৬, ৭২ ও ৮২ মিনিটে গোল তিনটি করেন তিনি।
এর আগে ম্যাচের ১১ মিনিটে এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রোনালদোর আরও দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ফলে পাঁচবার বল জালে পাঠিয়েও শেষ পর্যন্ত স্কোরশিটে নাম ওঠে তিনবার।
এই হ্যাটট্রিকের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে ৬৭তমবারের মতো তিন গোলের কীর্তি গড়লেন রোনালদো। একই সঙ্গে আরও এগিয়ে গেলেন ক্যারিয়ারের ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে। সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ৯৮৫। অর্থাৎ চার অঙ্কের গোলসংখ্যায় পৌঁছাতে প্রয়োজন আর মাত্র ১৫ গোল।
আল নাসরের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন রোনালদোর পর্তুগিজ সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্সও। দলের চারটি গোলের পেছনে সরাসরি অবদান ছিল তাঁর। এর মধ্যে রোনালদোকে দুটি গোল করতেও সহায়তা করেন এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার।
ম্যাচের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন রোনালদো। লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ পুরস্কার জয়ের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। পুরস্কার জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। নিজের পোস্টে ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে রোনালদো লেখেন, সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অরও ভক্তদেরই।
বয়সকে হার মানিয়ে মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। আল নাসরের জার্সিতে এটি তাঁর সপ্তম হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ মে ক্লাবটির হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তিন গোলের দেখা পেলেন পর্তুগিজ এই তারকা।
চলতি মৌসুমেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন রোনালদো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৯। অন্যদিকে সৌদি প্রো লিগে ১০ ম্যাচ খেলে করেছেন ৮ গোল।
ক্যারিয়ারের ৬৭টি হ্যাটট্রিকের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪টি, পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ১০টি, আল নাসরের হয়ে ৭টি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্টাসের হয়ে ৩টি করে হ্যাটট্রিক করেছেন রোনালদো।
ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যার হিসাবেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ তারকা। রোনালদোর গোলসংখ্যা যেখানে ৯৮৫, সেখানে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির গোল ৯৩৬। অর্থাৎ দুজনের ব্যবধান ৪৯ গোল। মেসির ক্যারিয়ারে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা ৬২টি।
১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক থেকে এখন মাত্র ১৫ গোল দূরে রোনালদো। বয়সকে পেছনে ফেলে একের পর এক গোল করে যাওয়া এই কিংবদন্তির হাজারতম গোলের অপেক্ষায় এখন বিশ্বজুড়ে তার কোটি ভক্ত-সমর্থক।

স্পোর্টস ডেস্ক