সেঞ্চুরির আক্ষেপ ঘোচাতে পারবেন কি সাদমান? যা বললেন সালাউদ্দিন
আর মাত্র এক রান! ক্রিকেটে যে রানটি নিতে কখনো কয়েক সেকেন্ডও লাগে না, সেই এক রানই যেন সাদমান ইসলামের কাছে হয়ে উঠল দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। ব্যাট হাতে ৯৯ রানে অপরাজিত, সেঞ্চুরির দুয়ারে দাঁড়িয়ে তিনি। গ্যালারির দর্শক থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুমে থাকা সতীর্থরা, সবার চোখ তখন সাদমানের দিকে। কখন আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত রান, কখন পূর্ণ হবে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা! কিন্তু ক্রিকেট যে বড়ই অনিশ্চিত। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আলোকস্বল্পতা কেড়ে নিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন না সাদমান। এখন অপেক্ষা আরও একটি দিনের, আর মাত্র এক রানের।
আজ বুধবার (২৮ অক্টেবার) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের খেলা শেষে ৭৪ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে সাদমানের রান ছিল ৯৬। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর আবারও শুরু হয় খেলা। কিন্তু এরপর চার ওভার খেলা হলেও সাদমানের ব্যাট থেকে আসেনি কাঙ্ক্ষিত সেই রান। প্রায় ১৩ বল মোকাবিলা করে তিনি যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ৩ রান। তাতে তার স্কোর দাঁড়ায় ৯৯। এরপর আবারও আলোকস্বল্পতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। মাঠে থাকা ব্যাটসম্যান, ড্রেসিংরুমে থাকা সতীর্থ এবং গ্যালারির দর্শকদের অপেক্ষা তখন একটাই, সাদমানের সেঞ্চুরি। কিন্তু সেই অপেক্ষা পূর্ণতা পায়নি প্রথম দিনে।
সাদমানের সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি এসেছিল ১৭ ইনিংস আগে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ২১ ম্যাচ খেলেও সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। মিরপুর টেস্টে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ৯৯ থেকে ১০০ হওয়ার জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে পরের দিন পর্যন্ত।
সাদমানের এই অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন পুরো বাংলাদেশ দলও। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, দলের সবাই চাইছিলেন সাদমান যেন সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করতে পারেন। তার ভাষায়, “আমরা পুরো দলই আসলে নার্ভাস। সবাই চাচ্ছিলাম যেন ওর সেঞ্চুরিটা হয়ে যায়। কারণ, প্রায় ৩০টার মতো টেস্ট খেলে মাত্র ২টা সেঞ্চুরি। আমার মনে হয়, এই সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।”
সাদমানের জন্য এই সেঞ্চুরি যে কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, সেটিও মনে করেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, “আশা করব, এটা হলে সে আরও বেশি বুঝতে পারবে যে সেঞ্চুরি করতে হলে কী করতে হবে। আমার মনে হয়, এই ইনিংসটা তার পরবর্তী জীবনে অনেক সাহায্য করতে পারে।”
সাদমানের সমস্যা অবশ্য রান করতে না পারা নয়, বরং ভালো শুরু পেয়েও ইনিংসকে বড় করতে না পারা। গত তিন বছরে টেস্টে ওপেনারদের মধ্যে রান সংগ্রহের তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন তিনি। এই সময়ে আটটি ফিফটি করলেও সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন মাত্র একটি। তার ওপরে থাকা ছয় ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকেরই ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার হার বেশি। ক্রিকেটের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘কনভারশন রেট’, সাদমানের দুর্বলতা মূলত সেখানেই।
সালাউদ্দিনের ধারণা, নিজের এই সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সাদমানও এখন সচেতন। হয়তো এ নিয়ে কোচের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সালাউদ্দিন বলেন, “আমার মনে হয়, ও নিজেও হয়তো বুঝতে পারছে, হয়তো কোচের সঙ্গে কথা বলেছে। কারণ, ওর কনভারশন রেটটা আসলে খুব বেশি নয়। অনেকগুলো ইনিংসেই কিন্তু খুব ভালোভাবে ফিফটি করেছে, কিন্তু ওটা সে লম্বা করতে পারেনি। হয়তো মধ্যে কোনো প্রসেসে তার সমস্যা ছিল।”
পরের দিন মাঠে নেমে সাদমান সেই অধরা এক রান তুলে সেঞ্চুরির অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারেন কি না সেটা দেখার অপেক্ষায় হাজারো দর্শক। মিরপুরে তাই সাদমানের ব্যাট থেকে আসা পরের রানটি শুধু একটি সংখ্যা নয়, হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের গল্প।

স্পোর্টস ডেস্ক