ঘরের মাঠে জিদানের প্রত্যাবর্তন রাঙাতে দিল না ইতালি
দায়িত্ব বদলে ঘরের মাঠে ফ্রান্সের সমর্থকদের সামনে প্রত্যাবর্তন ঘটল জিনেদিন জিদানের। কোচ হিসেবে প্রথমবার ঘরের মাঠে ফ্রান্সের ডাগআউটে দাঁড়ালেন তিনি। তবে প্রত্যাবর্তনটা রঙিন হলো না। এগিয়ে গিয়েও ইতালির বিপক্ষে জয়টা ধরা দিল না ফরাসিদের। মাঠ ছেড়েছে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিনগত রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ঘরের মাঠ স্টেট দে ফ্রান্সে ইতালির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের গোলে এগিয়ে গেলেও আলেসান্দ্রো বাস্তোনির গোলে সমতা ফেরায় ইতালি।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইতালি বেশ চাপ সৃষ্টি করে খেলছিল। নবম মিনিটেই লিড নেওয়ার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে সফরকারীরা। বাঁ দিক থেকে আসা দুর্দান্ত পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতরের ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন মোইজে কিন। কিন্তু তার নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বিপদ থেকে বাঁচান ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ।
এরপর ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে স্বাগতিক ফ্রান্স। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নেয় তারা। ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলের নেওয়া সেই শটটি অবশ্য সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন ইতালির পরীক্ষিত গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। প্রথমার্ধে দুই দলই সমান আটটি করে শট নিলেও কাজের কাজটি কেউ করতে পারেনি।
তবে বিরতি থেকে ফিরে মাঠে নেমেই ফরাসিরা যেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দেজিরে দুয়ে ও উসমান দেম্বেলে মিলে বেশ কয়েকবার দোন্নারুম্মার পরীক্ষা নেন। যদিও প্রতিবারই ইতালিয়ান গোলরক্ষক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে বাধা দেন। এর দুই মিনিট পর ওলিসের নেওয়া একটি শটও দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন দোন্নারুম্মা।
এরপর ৫৫তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি ইতালির। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। রায়ান চেরকির মৃদু এক টোকায় বল একটু সামনে বাড়তেই বুলেট গতির শটে বল সরাসরি জালে পাঠান মাইকেল ওলিসে। এবার আর গোলরক্ষক দোন্নারুম্মার কিছুই করার ছিল না।
এই গোল পাওয়ার পর ফরাসি শিবিরে জয়ের সুবাস ছড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু ম্যাচের চিত্র বদলে যায় ৬৮তম মিনিটে। নিজেদের রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলেই মূলত বিপদ ডেকে আনে ফ্রান্স। বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন লুকা দা কুইয়া। সেই আলগা বল লুফে নিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন বাস্তোনি। এরপর সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে দুর্দান্ত সমতা ফেরান তিনি।
সমতা ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ফরাসিরা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গোল করার সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান জানলুইজি দোন্নারুম্মা। ম্যাচের শেষদিকে আদ্রিয়াঁ রাবিও ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার নিশ্চিত দুটি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে ইতালির এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেন এই গোলরক্ষক।
ম্যাচের শেষদিকে এসে ফরাসিদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেন দাইয়ু উপামেকানো। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে মোইজে কিনকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এই ডিফেন্ডার। যার ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স।
এরপর বাকি সময় ১০ জন নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেও আর গোলের দেখা পায়নি জিদানের দল। বর্তমান নেশন্স লিগের চলতি আসরে এটিই ফ্রান্সের প্রথম পয়েন্ট হারানোর ঘটনা। এর আগের প্রথম দুটি ম্যাচেই ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল তারা।
তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষস্থান অবশ্য এখনো ফ্রান্সের দখলেই রয়েছে। অন্যদিকে, ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম এবং ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে অবস্থান করছে ইতালি।

স্পোর্টস ডেস্ক