আর্জেন্টিনার দাপটে গোলবন্যায় ভেসে গেল বুরকিনা ফাসো
মেসি না থাকলেও দাপট যেন একটুও কমেনি আর্জেন্টিনার। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনার সুনাম আরও একবার ফুটে উঠল বড় জয়ে। বুরকিনা ফাসোকে রীতিমত উড়িয়ে দিয়ে আলবিসেলেস্তেরা জানান দিল, মেসিবিহীন দলও কতটা ভয়ংকর।
মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার দাপুটে জয় অব্যাহত রয়েছে। বলিভিয়ার পর এবার বুরকিনা ফাসোকেও গোলের বন্যায় ভাসিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ফল দেখে আর্জেন্টিনার দাপট বোঝা গেলেও বুরকিনা ফাসোর প্রস্তুতির গল্পটা ছিল আরও বিস্ময়কর। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে আর্জেন্টিনার মাটিতে পৌঁছেছিল দলটি। মরক্কো থেকে প্রথম চার্টার ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে নতুন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। তাড়াহুড়োর কারণে মূল জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ম্যাচ খেলতে রাজি হননি।
বুরকিনা ফাসোর সংবাদমাধ্যম বুরকিনা ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, কোচ আমির আব্দোউ বাধ্য হয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের ডাকেন। মূল জাতীয় দলের মাত্র একজন খেলোয়াড়, মিডফিল্ডার চেক বেবেল দৌউম্বি, এই ম্যাচে খেলেছেন। ফলে মাঠে নামা দলটি কার্যত বুরকিনা ফাসোর তরুণদের দলেই পরিণত হয়েছিল।
কাসাব্লাঙ্কা থেকে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত ৯ হাজার ২৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দলটির সময় লাগে ১১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। বিমানবন্দর থেকেই সরঞ্জাম পাঠিয়ে অল্প সময়ের জন্য হোটেলে গিয়ে এরপর সরাসরি মাঠে নামে তারা। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার তাই খুব একটা অস্বাভাবিক ছিল না।
ম্যাচের শুরু থেকেই বুরকিনা ফাসোর ওপর চড়াও হয় আর্জেন্টিনা। অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। অগাস্তিন জিয়ায় পেনাল্টি বক্সে ফাউলের শিকার হলে স্পট কিক পায় আর্জেন্টিনা। লাউতারোর প্রথম শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন গোলকিপার রাজাক গুইরা। তবে বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় ফিরতি সুযোগে গোল করেন লাউতারো।
জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল লাউতারোর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল। ৪২তম আন্তর্জাতিক গোল করে সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে যৌথভাবে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। সামনে এখন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৪ গোল। তালিকার শীর্ষে ১২৫ গোল নিয়ে লিওনেল মেসি।
এর দুই মিনিট পরই আত্মঘাতী গোল করে বসে বুরকিনা ফাসো। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো। ম্যাচের প্রথম আট মিনিট তাই ২২ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডারের জন্য হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্নের মতো।
এরপর ১৫ মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। ডি-বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর নিকো পাজ যোগ করেন চতুর্থ গোল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করলে ৪৫ মিনিটেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ৫-০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধে গতি কিছুটা কমালেও গোল করা থামায়নি আর্জেন্টিনা। বদলি হিসেবে নেমে ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে সপ্তম গোলটি করেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
পরিসংখ্যানেও ছিল আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রথমার্ধেই বুরকিনা ফাসোর গোলমুখে ১১টি শট নেয় আর্জেন্টিনা। বিপরীতে আফ্রিকার দলটি প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে পারেনি, পায়নি কোনো কর্নারও। ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বুরকিনা ফাসো একটি শট নিতে পেরেছিল। সেটিও আর্জেন্টাইন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের জন্য বড় কোনো পরীক্ষা হয়ে ওঠেনি।
দুই দলের পারফরম্যান্স বিবেচনায় ম্যাচটি ছিল সম্পূর্ণ একপেশে। আর্জেন্টিনা গোল করেছে সাতটি, বুরকিনা ফাসো কোনো গোলের দেখা পায়নি। তবে ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দন ও আলিঙ্গনের দৃশ্য বলে দিচ্ছিল, ফল যতই একপেশে হোক, মাঠের বাইরের সৌহার্দ্যে কোনো ঘাটতি ছিল না।
আর আর্জেন্টিনার সামনে এখন আরও আবেগঘন এক ম্যাচ। ৬ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি পরবেন লিওনেল মেসি। সেই বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখার আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের জয় দিয়ে নিজেদের প্রস্তুতিটাও ভালোভাবেই সেরে নিল আলবিসেলেস্তেরা।

স্পোর্টস ডেস্ক