আসিয়ান কাপ
লড়াই জমিয়েও জেতা হলো না বাংলাদেশের
ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করে গেল বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে গোলের সুযোগও তৈরি করে নিল কয়েকবার। তবে ফিনিশটা করতে পারলেন না কেউ। পুরো ম্যাচ জুড়ে ভালো খেলেও সেই হতাশাটা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো হামজা চৌধুরী-জামাল ভূঁইয়াদের। লড়াই করেও সিঙ্গাপুরের কাছে হারতে হলো বাংলাদেশকে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল টমাস ডুলির দলের।
ম্যাচের শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় মিনিটেই আদায় করে নেয় কর্ণার। জামাল ভূঁইয়ার নেওয়া কর্ণার বক্সের মধ্যেই ছিল। কিন্তু সেটি বাংলাদেশের কোনো ফুটবলারকে খুঁজে পায়নি।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়িয়েছিল সিঙ্গাপুর। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ছয় গজ বক্সের মধ্য থেকে শট নিয়েছিল সিঙ্গাপুর। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি আটকে দেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
সেখান থেকে টানা দুটি কর্ণার আদায় করে নেয় সিঙ্গাপুর। তবে সেটি কাজে লাগাতে পারেনি তারা। উল্টো প্রতিআক্রমণ থেকে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় বাংলাদেশ। যদিও সেটি গোলে রূপান্তর করা যায়নি।
ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে বাংলাদেশকে রক্ষা করে গোলরক্ষক শ্রাবণ। সেটপিস থেকে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে সিঙ্গাপুর। গোলবারে নেওয়া শট প্রথম দফায় দারুণ দক্ষতায় আটকান শ্রাবণ। এরপর দ্বিতীয় দফায় নেওয়া শট ব্লক করেন ডিফেন্ডার তারিক কাজী।
তবে এর তিন মিনিট পর আর বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারেননি শ্রাবণ। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে ওঠে সিঙ্গাপুর। বল নিয়ে এগিয়ে এসে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান নুর আব্দুল্লাহ। ফাঁকায় হারিস স্টুয়ার্ট লাফিয়ে উঠে বল জালে জড়িয়ে দেন। গোলরক্ষক শ্রাবণের দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
এরপর দুই দলই আরও কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে হানা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সফল হতে পারেনি কেউই। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে গোলের চেষ্টা করেছিল সিঙ্গাপুর। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়িয়েছিল। সেই ক্রস থেকে নেওয়া হেডার সহজেই গ্লাভসবন্দি করেন শ্রাবণ।
৬০তম মিনিটে সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশও। কয়েক মিনিট ধরে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণ করে বাংলাদেশ। তবে চারদফা বক্সের মধ্যে জামালের ক্রস থেকে গোল আদায় করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দুই মিনিট পরই গোলের সবচেয়ে কাছে পৌছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৬২তম মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে বক্সের মধ্যে বাড়ানো ক্রস দৌড়ে গিয়ে লাফিয়ে উঠে হেড করেছিলেন শমিত। কিন্তু সেটি চলে যায় গোলবারের ওপর দিয়ে।
বাংলাদেশের আক্রমণ সামলে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে আবারও ভীতি ছড়ায় সিঙ্গাপুর। বক্সের মধ্যে বাড়ানো লং বল থেকে আচমকা হেড নিয়েছিল সিঙ্গাপুর। তবে সেটি অন টার্গেড ছিল না।
৭৭তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা পেয়েছিল বাংলাদেশ। মাঝ মাঠে বল পেয়ে একাই বল নিয়ে ছুটে যান বদলি নামা ফাহমিদুল ইসলাম। বক্সের সামনে থেকে তার বাড়ানো দারুণ ক্রস খুঁজে নিয়েছিল অনেকটা ফাঁকায় থাকা রাকিবকে। হেড গোলবারে রাখতে পারেননি রাকিব।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে একের পর এক সিঙ্গাপুরের রক্ষণে আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। কর্ণার থেকে দুই উইং দিয়ে একের পর এক ক্রস বড়াচ্ছিলেন জামাল-ফাহমিদুলরা। তবে একজন ফিনিশারের অভাবে গোল পাওয়া হচ্ছিল না বাংলাদেশের।
খেলার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল সিঙ্গাপুল। প্রতিআক্রমণ থেকে বক্সের সামনে বল পেয়ে গিয়েছিলেন শাওয়াল আনওয়ার। শরীরটাকে ঘুরিয়ে শটও নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেটি চলে যায় গোলবারের বাইরে দিয়ে।

স্পোর্টস ডেস্ক