কখনো ভাবিনি এভাবে অভিষেক হয়ে যাবে : শুকি
প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সেই স্বপ্নই ছোটবেলা থেকে বুকে লালন করে আসছিলেন সুখি ইতোফুসা। অবশেষে গতকাল পূরণ হয়েছে তার সেই অপেক্ষার। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক শিকড় থাকলেও জাপানের সাইতামা শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুখির বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে।
অভিষেকে দারুণ পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন সুখি। তবুও নিজের পারফরম্যান্সে আরও উন্নতির জায়গা দেখছেন এই তরুণ ফুটবলার। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলার অনুভূতি জানাতে গিয়ে সুখি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
তবে অভিষেক ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সুখি। বিশেষ করে ফিটনেস ও ম্যাচ কন্ডিশনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে চান তিনি। একই সঙ্গে গোল কিংবা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জন্য আরও কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যও তার।
সুখি বলেন, ‘আমি আসলে কখনো এভাবে ভাবিনি যে, গতকালই আমার অভিষেক হয়ে যাবে। তবে আমি দেশের হয়ে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।’
সুখির বেড়ে ওঠায় রয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান-- দুই সংস্কৃতির ছোঁয়া। তার মা জাপানি, আর বাবা বাংলাদেশি। পরিবারের মধ্যে বাবার সঙ্গেই মূলত বাংলায় কথা বলেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ভাষা জাপানিজ।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর তাই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাষা। তার সতীর্থদের কেউ জাপানিজ ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তবে ভাষার এই পার্থক্য এখনো বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সতীর্থরা ইংরেজি ও সহজ কিছু ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ কেউ আবার আলাদাভাবে তার খোঁজও রাখছেন।
এ নিয়ে সুখি বলেন, ‘এখন আমি মোটামুটি একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। সময়টা খুব উপভোগও করছি, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে দীর্ঘ সময় পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে সুখিকে। তবে এটিকে কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং ফুটবলার হিসেবে নিজের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গে পরিবারের স্বপ্নও জড়িয়ে আছে বলে মনে করেন এই তরুণ।
পরিবার থেকে দূরে থাকার বিষয়ে সুখি আনন্দের সাথে বলেন, ‘এটা একজন ফুটবলার হিসেবে আমার স্বপ্ন, আবার এটা আমার পরিবারেরও স্বপ্ন। পরিবার থেকে দূরে থেকে আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে সেটা আমার পরিবার এবং আরও অনেক মানুষের জন্য আনন্দ বয়ে আনে। তাই আমি মনে করি, পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কোনো সমস্যা নয়।’

স্পোর্টস ডেস্ক