‘সর্বকালের সেরা’ মেসিকে বিদায় জানিয়ে সতীর্থদের আবেগঘন বার্তা
আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের পথচলা। লিখেছেন নানা জয়-পরাজয়ের গল্প। ক্যারিয়ারের সবকিছুই জয় করাও হয়ে গেছে তার। এরপর অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল, কবে এই গল্পের শেষটা লিখবেন লিওনেল মেসি? আর অপেক্ষা নয়, সেই ঘোষণাটা দিয়ে দিলেন তিনি। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন মেসি।
মেসির অবসরের ঘোষণায় আবেগাপ্লুত গোটা ফুটবল বিশ্ব। আবেগাপ্লুত তার সতীর্থরাও। মেনে নিতে পারছেন না প্রিয় সতীর্থর এই বিদায়। অবসরের ঘোষণায় মেসি জানিয়েছেনম জাতীয় দলে তার আর দেওয়ার কিছু নেই। তবে নিকো পাজ বলছেন, ‘না, লিওওও। তোমার দেওয়ার মতো আরও অনেক বাকি আছে।’
সতীর্থদের মধ্যে কেউ মেসি বলেছেন ‘সর্বকালের সেরা’, কেউ আবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য। সবমিলিয়ে সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত ফুটবল বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই তারকা।
মেসির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ কতটা প্রবল ছিল নিজের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে এক আবেগঘন বার্তায় সেটি জানিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ, ‘লিও, তুমি যখন জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলে, তখন ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তখন অল্প বয়সী, তোমার সঙ্গে কখনো এক দল হয়ে খেলার সুযোগ পাব কি না—সেটা বুঝতে তোমার বয়সের সঙ্গে নিজের বয়স মিলিয়ে হিসাব কষতাম। কথাটা বোকার মতো শোনাতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই তা-ই করতাম...।’
এরপরের গল্পটা তো সাফল্যে ভরা। মেসির সঙ্গে শুধু ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি নয়, বিশ্বকাপের শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেছেন তিনি। সেই স্মৃতি মনে করে এনজো লিখেছেন, ‘ভাগ্য ভালো যে তুমি ফিরে এসেছিলে...আমি শুধু তোমার সঙ্গে খেলার সুযোগই পাইনি; আমরা একসঙ্গে ক্যাম্প করেছি, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিয়েছি, কঠিন সময় পার করেছি, অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’
মেসিকে ছাড়া পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করাটাও কঠিন বলে জানিয়েছেন তিনি। ফার্নান্দেজ বলেন,‘তোমাকে ছাড়া পরবর্তী জাতীয় দলের ক্যাম্পের কথা কল্পনা করা সত্যিই কঠিন। মাঠে তোমাকে ১০ নম্বর জার্সি পরতে আর না দেখাটা, এত বছর ধরে অভ্যস্ত চোখের কাছে বিষয়টি অসম্ভব বলে মনে হয়। ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’
মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ রদ্রিগো দি পলও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দেশের প্রতি মেসির ভালোবাসা, কখনো হার না মানার মানসিকতা এবং সতীর্থদের প্রতি তার মানবিকতার প্রশংসা করে দি পল লিখেছেন, ‘সর্বকালের সেরা, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না যে, আমাদের মুখে কত হাসি ফুটিয়েছ। তুমি অমর।’
আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজের বার্তাতেও ছিল গভীর কৃতজ্ঞতা। মেসির মাঠের অর্জনের পাশাপাশি মাঠের বাইরে তার কাছ থেকে শেখা বিষয়গুলোও স্মরণ করেছেন লাউতারো। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘লিও, তুমি আমাদের জন্য যা করেছ, কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো যথেষ্ট শব্দ আমার জানা নেই। মাঠের ভেতর তোমার সব অর্জনের বাইরেও, মাঠের বাইরে আমাদের যা শিখিয়েছ, তা আমি সব সময় মনে রাখব।’
মেসি তাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মনে করেন মার্টিনেজ। তিনি লিখেছেন, ‘কখনো হার না মানা, প্রতিটি হোঁচটের পর আবারও চেষ্টা চালানো, নীরবে কাজ করা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজেদের ওপর সব সময় বিশ্বাস রাখা। তোমার নেতৃত্ব শুধু গোল, অ্যাসিস্ট বা শিরোপার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এত দিন ধরে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তুমি আমাদের জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেটিই ছিল আসল...আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’
মেসির সাবেক সতীর্থ ডি মারিয়া অবশ্য আবেগকে তিনটি শব্দেই আটকে রেখেছেন। ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন,‘চিরকালীন ধন্যবাদ, অধিনায়ক।’
আর্জেন্টিনার হয়ে দুই দশকের বেশি সময়ের পথচলায় মেসি জিতেছেন বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকাসহ একাধিক শিরোপা। গড়েছেন অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ড। তাই তার বিদায়ের ঘোষণায় সতীর্থদের কণ্ঠে একই সুর, মেসি শুধু একজন অধিনায়ক নন, আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসেরই এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।

স্পোর্টস ডেস্ক