অলরাউন্ড নৈপূণ্যে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ
সিরিজ বাঁচাতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। এমন ম্যাচে জ্বলে উঠলেন ব্যাটাররা। দুই ওপেনার সাইফ হাসান আর তানজীদ হাসান তামিম দারুণ শুরু করলেন। আর শেষটা করলেন ইয়াসির আলী রাব্বি আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এতে মবড় পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। এরপর বাকি কাজটা সারেন বোলাররা। এতে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ে। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান তুলে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১৯.৪ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২১ রানের মধ্যে হারায় টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে। প্রথম ওভারেই তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে (৩ বলে ৪) ফেরান মেহেদী হাসান। পরের ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে (৫ বলে ১১) ফেরান নাহিদ রানা। নিজের পরের ওভারে দিয়ন মায়ার্সকে (৭ বলে ৪) ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় শিকার ধরেন মেহেদী।
শুরুতেই কোমড় ভেঙে যাওয়া জিম্বাবুয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলে মিডল অর্ডারে। এবার নিজের কাধে দায়িত্ব তুলে নেন রিশাদ হোসেন। প্রতিরোধ গড়া তিন ব্যাটারকেই নিজের শিকারে পরিণত করেন তিনি।
মিল্টন শুম্বা আর অধিনায়ক সিকান্দার রাজার চতুর্থ উইকেটে ২৫ বলে ৪৪ রানের জুটিতে আশা দেখছিল স্বাগতিকরা। সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে সেই আশার গুড়ে বালি ছিটিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। ১২ বলে ২৮ রান করে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।
এরপর দ্রুতই শুম্বাকেও ফেরান রিশাদ। বোল্ড হওয়ার আগে শুম্বার ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ১৯ রান। আরেক প্রান্তে চেষ্টা করছিলেন রায়ান বার্ল। তবে তাকেও বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি রিশাদ। ১৯ বলে ২৯ রান বার্লকে ফেরান পারভেজ হোসেন ইমনের ক্যাচ বানিয়ে।
শেসদিকে ব্র্যাড ইভান্স আর রিচার্ড এনগারাভা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটা শুধু মহারের ব্যাবধানই কমিয়েছে। ১৪ বলে ২৫ রান করা ইভান্সকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের শেষ আশা ভেঙে দেন সাইফউদ্দিন। ২ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যাওয়ার আগে ১৫২ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয় দারুণ। শতক ছাড়ানো জুটি গড়েন দুই ওপেনার সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিম। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সাইফ ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ১৫তম ওভারে সিকান্দার রাজার বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৪৫ বলে ৫৫ রান করেন তিনি।
পরের ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার তামিমও। এর আগেই তিনিও তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি। রিচার্ড এনগারাভার বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ৫৮ রান।
এরপর মিডল অর্ডারে ব্যাটিং ধ্বস দেখে বাংলাদেশ। দ্রুতই আরও বিদায় নেন পরের তিন ব্যাটার। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় (৫ বলে ৬), পারভেজ হোসেন ইমন (২ বলে ১) ও নুরুল হাসান সোহান (২ বলে ৪)।
এতে বাংলাদেশের বড় রানের স্বপ্ন ভিঙ্গ হওয়ার অবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশকে আশা দেখান ইয়াসির আলী আর সাইফউদ্দিন। ষষ্ঠ উইকেটে ১৯ বলে ৪৫ রানের অপরাজিত জুটিতে বাংলাদেশকে বড় পুঁজি এনে দেন তারা। ইয়াসির ১২ বলে ২২ আর সাইফউদ্দিন ১০ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ করে ১৮৬ রান।

স্পোর্টস ডেস্ক