অপেক্ষা ও আক্ষেপে মোড়ানো ইংল্যান্ডের ৬০ বছর
ছয় দশক ধরে একই স্বপ্ন বুকে নিয়ে পথ চলছে ইংল্যান্ড। প্রজন্ম বদলেছে। কিংবদন্তিরা এসেছেন-গেছেন। ফুটবল বদলেছে। পৃথিবীও পাল্টে গেছে বহুবার। কিন্তু একটি দৃশ্য যেন সময়ের সঙ্গেও বদলায়নি। বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি আর ওঠেনি ইংল্যান্ডের কোনো অধিনায়কের হাতে। ১৯৬৬ সালের সেই গৌরবময় মুহূর্তের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপই তাদের সামনে নতুন আশার দুয়ার খুলেছে। আবার রেখে গেছে অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস।
সময় যেন এই অপেক্ষার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। ১৯৬৬ সালের পর যুক্তরাজ্যে হ্যারল্ড উইলসন থেকে স্যার কিয়ার স্টারমার পর্যন্ত ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে লিন্ডন বি. জনসন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত ১১ জন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এসেছেন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। মানুষ চাঁদে পা রেখেছে। বার্লিন প্রাচীর ভেঙে পড়েছে, আবিষ্কৃত হয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, চ্যানেল টানেল যুক্ত করেছে ব্রিটেনকে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে, আর স্মার্টফোন বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ-আক্ষেপের গল্পটি রয়ে গেছে একই জায়গায়।
১৯৬৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ফাইনাল টেলিভিশনে দেখেছিলেন প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ মানুষ। যা এখনো ব্রিটিশ সম্প্রচার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ দর্শকসংখ্যা। পরে ইউরো ১৯৯৬-এর আগে প্রকাশিত ইংল্যান্ডের বিখ্যাত গান ‘থ্রি লায়ন্স’-এ উচ্চারিত হয়েছিল ‘৩০ বছরের বেদনা’। সময়ের ব্যবধানে সেই বেদনা আজ ৬০ বছরের অপেক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
তবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার মাঝেও ইংল্যান্ড কখনো প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব অনুভব করেনি। ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকার ছয় গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। ২০১৮ সালে সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করেন হ্যারি কেন। সর্বশেষ আসরেও তিনি ছয় গোল করেছেন। তার সঙ্গে সমান ছয় গোল করে আক্রমণভাগে উজ্জ্বল ছিলেন জুড বেলিংহ্যাম। কিন্তু ব্যক্তিগত সাফল্য দলকে এনে দিতে পারেনি বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপের গৌরব।
পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষার গল্পই বলে। ৪৫৪ জন অভিষিক্ত ফুটবলার, ১৫ জন কোচ, ১৭ জন অধিনায়ক এবং ১৬১ জন বিশ্বকাপ খেলোয়াড় মাঠে নেমেছেন। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি হাতে তোলার গৌরব এখনো কেবল ববি মুর-এর নামের পাশেই লেখা আছে।
তবে এত দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আশাবাদ হারায়নি ইংল্যান্ড। প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে নতুন করে দল গড়ে ওঠে, জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন। ছয় দশকের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জয়ের বিশ্বাস এখনো অটুট থ্রি লায়ন্সদের। সেই স্বপ্ন নিয়েই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছে ইংলিশ ফুটবল।

স্পোর্টস ডেস্ক