স্পেনকে হারালেই নতুন কীর্তি গড়বে ফ্রান্স
বিশ্বকাপের মঞ্চে পুরোনো হিসাব মেলানোর পাশাপাশি নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ ফ্রান্সের সামনে। একদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার হাতছানি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক হারের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। তবে সেই পথে বড় বাধা স্পেন। যারা গত কয়েক বছরে বারবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের। ডালাসে দুই ইউরোপীয় শক্তির এই লড়াইয়ে থাকবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের তীব্র লড়াই এবং নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্সের সাফল্যের বড় অধ্যায় শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট পরে তারা। এরপর ২০০৬ সালে আবারও ফাইনালে উঠেছিল ফরাসিরা, তবে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। চার বছর পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠেছিল তারা, তবে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হারতে হয়।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ফ্রান্সের সামনে। সেমিফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে দেশমের দল। একই সঙ্গে আটটি আসরের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নেবে তারা।
এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলে ফ্রান্স জায়গা করে নেবে জার্মানি আর ব্রাজিলের পাশে। এর আগে টানা তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার ইতিহাস আছে মাত্র এই দুই দেশের। এবার ফ্রান্সের সামনে সুযোগ তৃতীয় দল হিসেবে সেই তালিকায় নাম লেখানো।
তবে ফ্রান্সের পথ সহজ করছে না স্পেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দলটিই বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। এরপর ২০২৫ সালের নেশন্স লিগেও দুই দলের লড়াইয়ে জয় পেয়েছিল লা রোহা।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে বদলে যাওয়া এক ফ্রান্সকে দেখা যাচ্ছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন ৮ গোল, ওসমান দেম্বেলে করেছেন ৫ গোল। দুই তারকার ১৩ গোল ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে করেছে এবারের আসরের সবচেয়ে ভয়ংকর শক্তিগুলোর একটি।
২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মূল শক্তি ছিল শক্ত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। ২০২২ সালের দলটি অনেকটাই নির্ভর করেছিল এমবাপ্পের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর। তবে ২০২৬ সালের ফ্রান্স আরও ভারসাম্যপূর্ণ। মাইকেল অলিসে মাঝমাঠে সৃজনশীলতা যোগ করেছেন, আর ব্র্যাডলি বারকোলা ও দেজিরে দুয়ে আক্রমণে বাড়তি গতি এনে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্পেনও এসেছে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়ে। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলটি বল দখল, দ্রুত পাসিং ও সংগঠিত রক্ষণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা, যা তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তার প্রমাণ।
তবে স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণ ভাঙার সামর্থ্য আছে ফ্রান্সের। এমবাপ্পের গতি স্পেনের রক্ষণকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করবে, আর দেম্বেলের উইং আক্রমণে তৈরি করতে পারে বাড়তি চাপ। মাঝমাঠে অলিসের সৃজনশীলতা হতে পারে ম্যাচের অন্যতম নিয়ামক।
দুই দলের এই লড়াই শুধু একটি সেমিফাইনাল ম্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্পেন চায় সাম্প্রতিক আধিপত্য ধরে রাখতে। আর ফ্রান্সের লক্ষ্য ১৯৯৮, ২০১৮ ও ২০২২-এর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস তৈরি করা।

স্পোর্টস ডেস্ক