আর্জেন্টিনার সামনে রেকর্ডের হাতছানি, চমক দেখাতে মুখিয়ে মিসর
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, পর্তুগাল, প্যারাগুয়ে এবং স্বাগতিক তিন দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে মরক্কো, ফ্রান্স, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন ও বেলজিয়াম নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। এবার শেষ আটের বাকি দুই টিকিটের একটির লড়াইয়ে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার প্রতিনিধি মিসর।
একদিকে লিওনেল মেসির সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। অন্যদিকে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে আফ্রিকার ফুটবলে নতুন রূপকথা লেখার স্বপ্ন। তাই এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বুকে নিয়ে লড়বে মিসর।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গেছেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন আসরে অন্তত সাতটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছেন মেসি। পরে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মিসরের বিপক্ষে আরেকটি গোল করতে পারলে ১৯৩০ সালের গিয়ের্মো স্তাবিলের পর এক বিশ্বকাপে আট গোল করা দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হবেন মেসি। পাশাপাশি বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করা ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার সুযোগও রয়েছে তার সামনে।
পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। আলবিসেলেস্তেরা টানা ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে। মিসরের বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের উরুগুয়ের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা ১১ বিশ্বকাপ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়বে তারা।
আরও একটি রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে স্কালোনির দল। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। এবারের আসরেই আলজেরিয়া ও কেপ ভার্দেকে হারিয়েছে তারা। মিসরকেও পরাজিত করতে পারলে এক বিশ্বকাপে তিনটি আফ্রিকান দলকে হারানো প্রথম দল হবে আর্জেন্টিনা।
মিসরের সবচেয়ে বড় ভরসা মোহাম্মদ সালাহ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে শঙ্কা থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিট খেলেছেন তিনি এবং টাইব্রেকারেও সফল স্পটকিক নিয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে সালাহ ১৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। এই ম্যাচে আরও দুটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংয়ের গড়া ১৮টি সুযোগ তৈরির আফ্রিকান রেকর্ড স্পর্শ করবেন তিনি।
বিশ্বকাপে এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৮ সালে কায়রোয় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে। ফুটবলে অবশ্য অতীতের পরিসংখ্যান খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না।
সম্ভাব্য একাদশ
আর্জেন্টিনা: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গনসালেস।
মিসর: মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি, মোহাম্মদ হানি, মোহাম্মদ আবদেলমোনেম, রামি রাবিয়া, আহমেদ ফাতুহ, হামদি ফাথি, মারওয়ান আতিয়া, এমাম আশুর, ত্রেজেগে, মোহাম্মদ সালাহ, ওমর মারমুশ।

স্পোর্টস ডেস্ক