স্বাগতিক মেক্সিকোর সামনে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা
ইতিহাসের ঋণ শোধের সুযোগ খুব বেশি আসে না। ইংল্যান্ডের সামনে তেমনই এক সুযোগ এনে দিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ১৯৮৬ সালের তিক্ত স্মৃতির সাক্ষী অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আবারও খেলতে নামছে থ্রি লায়ন্সরা। তবে এবার তাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাগতিক মেক্সিকো। যারা এই মাঠে বিশ্বকাপে কখনো হারেনি। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ের পাশাপাশি এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাস, আবেগ ও মর্যাদার এক হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে (মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম) শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড আর মেক্সিকো। খেলাটি বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি-স্পোর্টস ও সময় টিভি। অনলাইনে দেখা যাবে টফি, বায়োস্কোপ, আই-স্ক্রিণ, মাই রবি ও মাই এয়ারটেল অ্যাপে।
শেষ ষোলোর এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড ও হাভিয়ের আগিরের মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির উচ্চতায় অবস্থিত ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপুল সমর্থন। পরিচিত পরিবেশ এবং দুর্দান্ত রেকর্ড- ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।
এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিতে নকআউটে ওঠার পর প্রথম নকআউট ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে এল ত্রি। অন্যদিকে, গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ ওঠা ইংল্যান্ড কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কঙ্গোর বিপক্ষে একটি হেডের গোলসহ বিশ্বকাপে হেড থেকে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে হেড থেকে তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু মিরোস্লাভ ক্লোসে ও গার্ড মুলার। বড় ম্যাচে গোল করার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব-- দুই দিক থেকেই ইংল্যান্ডের প্রধান অস্ত্র কেইন। মাঝমাঠে জুড বেলিংহ্যাম, ডেকলান রাইস এবং আক্রমণে বুকায়ো সাকার পারফরম্যান্সও দলের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর আক্রমণের মূল ভরসা হুলিয়ান কিনিয়োনেস। এবারের বিশ্বকাপে তিন গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে তিনি দারুণ ছন্দে রয়েছেন। রবার্তো আলভারাদোর সৃজনশীলতা, এদসন আলভারেজের নেতৃত্ব এবং জোহান ভাসকেস-সেসার মন্টেসের দৃঢ় রক্ষণ মেক্সিকোকে পরিণত করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সংগঠিত দলে।
অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম বরাবরই মেক্সিকোর শক্ত ঘাঁটি। বিশ্বকাপে এই মাঠে এখন পর্যন্ত তারা কোনো ম্যাচ হারেনি। ১০ ম্যাচে আট জয় ও দুটি ড্র তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আজটেকায় টানা ২২ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্বাগতিকরা। গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উপস্থিতি তাদের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
তবে মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ১৯৬৬ সালে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল থ্রি লায়ন্সরা। এছাড়া সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে টানা চারটি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও রয়েছে ইংলিশদের। তবে এবার নকআউটের চাপ, স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন এবং আজটেকার বৈরী পরিবেশ এই ম্যাচকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
সবমিলিয়ে ইতিহাস, বর্তমানের ফর্ম, স্বাগতিকের বাড়তি সুবিধা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন-- সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম সেরা লড়াই হতে যাচ্ছে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচ। চার দশকের পুরোনো স্মৃতিকে পেছনে ফেলে ইংল্যান্ড নতুন ইতিহাস লিখবে। না কি নিজেদের দুর্গে আরেকটি স্মরণীয় জয় তুলে নেবে মেক্সিকো সেই উত্তর মিলবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের মহারণে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
মেক্সিকো: রাউল রাঙ্গেল, হোর্হে সানচেজ, সেসার মন্টেস, জোহান ভাসকেস, জেসুস গালার্দো, এদসন আলভারেজ, এরিক লিরা, অরবেলিন পিনেদা, রবার্তো আলভারাদো, হুলিয়ান কিনিয়োনেস, আলেক্সিস ভেগা।
ইংল্যান্ড: জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, নিকো ও'রেইলি, ডেকলান রাইস, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা, এবারেচি এজে, মার্কাস রাশফোর্ড, হ্যারি কেইন।

স্পোর্টস ডেস্ক