ইংল্যান্ডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে নিরাপত্তা, আবহাওয়া এবং কৌশল ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা— সব মিলিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে রয়েছে থমাস টুখেলের দল।
মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে ইংল্যান্ড দল। হোটেলে ওঠার সময় একদল সমর্থক তাদের উদ্দেশ্যে দুয়ো দেয়, আবার অনেকে করতালিও করেছে। তবে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো কড়া। হোটেলের বাইরে মোতায়েন করা হয় ন্যাশনাল গার্ড ও দাঙ্গা পুলিশ।
এর আগে একই শহরে ইকুয়েডর দল অভিযোগ করেছিল, রাতে উচ্চ শব্দ করে তাদের ঘুমাতে দেওয়া হয়নি। লাউডস্পিকার, হর্ন এবং মোটরসাইকেলের শব্দে খেলোয়াড়দের বিরক্ত করা হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর ইংল্যান্ড শিবিরেও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য রাখা হয়েছে স্লিপ এইড, হোয়াইট নয়েজ মেশিন, এমনকি কেউ কেউ নিজস্ব ইয়ারপ্লাগও ব্যবহার করতে পারেন।
আবহাওয়াও বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচের দিন বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে, এমনকি শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর আগে একই ভেন্যুতে মেক্সিকোর ম্যাচ এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছিল বজ্রপাতের কারণে। ফিফা একপর্যায়ে ম্যাচের সময় এগিয়ে আনার কথাও ভেবেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তা পরিবর্তন করা হয়নি।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত মেক্সিকো সিটিতে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উচ্চতায় খেললে শারীরিক সক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অথচ ইংল্যান্ড দল ম্যাচের মাত্র দুদিন আগে সেখানে পৌঁছেছে, ফলে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুবই কম।
অন্যদিকে মেক্সিকো দল পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই এই উচ্চতায় খেলে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। নিজেদের মাঠ অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তাদের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে।
এর পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তির শঙ্কাও রয়েছে ইংল্যান্ড শিবিরে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কৌশল ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলন করেছে, যাতে প্রতিপক্ষ তাদের পরিকল্পনা জানতে না পারে।
সবমিলিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের নানা চ্যালেঞ্জ সামলেই নামতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে।

স্পোর্টস ডেস্ক