বিশ্বকাপের উন্মাদনার আড়ালে বর্ণবাদের কালো ছায়া
ফুটবলে বর্ণবাদ থামাতে নতুন নতুন আইন সংযোজন করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবারের বিশ্বকাপেও নতুন আইন যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তবুও বন্ধ করা যাচ্ছে না ফুটবলের এই কালো ছায়া। মাঠের ফুটবলে বর্ণবাদ কমলেও বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
ফিফার সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষা সেবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু গ্রুপ পর্বেই ৮৯ হাজার অপমানজনক ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে এমন পোস্টের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭০০। সেই হিসাবে এবার বিদ্বেষমূলক পোস্টের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৩ গুণ। মোট অপব্যবহারের ১১ শতাংশই ছিল বর্ণবাদমূলক। যা আগের আসরের তুলনায় আরও ৩ শতাংশ বেশি।
ফিফার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শুধু বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের সংখ্যাই বাড়েনি। বেড়েছে সবচেয়ে আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরিমাণও। সংস্থাটির ভাষ্য, বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট শনাক্ত করার প্রযুক্তি আগের চেয়ে উন্নত হলেও সামগ্রিক চিত্র বলছে, অনলাইনে বর্ণবাদী আচরণের প্রবণতা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে শতাধিক ঘটনার ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে শেষ ৩২ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর নেদারল্যান্ডসের তিন ফুটবলার জাস্টিন ক্লাইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার ও ক্রিসেনসিও সামারভিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন। নেদারল্যান্ডস ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশে অসংখ্য বৈষম্যমূলক ও ঘৃণাত্মক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। যা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি পুরো ফুটবল অঙ্গনের জন্যই উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্বকাপ চলাকালে ৬০ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করেছে এসএমপিএস। এর মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার পোস্ট মানব পর্যালোচনার জন্য আলাদা করা হয়, প্রায় এক হাজার অ্যাকাউন্টকে তদন্তের আওতায় আনা হয় এবং ১ লাখ ৮১ হাজার ঘৃণাত্মক মন্তব্য আড়াল করা হয়েছে। অনলাইনে ঘৃণা ও বর্ণবাদ ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছে ফিফা।

স্পোর্টস ডেস্ক