আলোচনার কেন্দ্রে ‘অনন্য ফ্রান্স’
চলমান বিশ্বকাপে ফ্রান্স যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির নাম। একের পর এক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে এগিয়ে চলেছে তারা। শুধু জিতছেই না, মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। গতিশীল আক্রমণ। গোল করার অসাধারণ দক্ষতা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আর দলীয় বোঝাপড়া সবমিলিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল এখন শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদারদের একটি। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই ফ্রান্সকে থামানোর সাধ্য কার?
সুইডেনকে ৩–০ গোলে হারিয়ে সেই প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে ফরাসিরা। নিউ জার্সিতে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে তারা। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেন জোড়া গোল। আর একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। কিন্তু স্কোরলাইনও ফ্রান্সের আধিপত্য পুরোপুরি বোঝাতে পারে না।
পুরো ম্যাচে তারা নেয় ২৫টি শট। যা ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে এক ম্যাচে তাদের সর্বোচ্চ। চার ম্যাচে করেছে ১৩ গোল। টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তিও গড়েছে তারা।
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু আক্রমণ নয়, দলীয় ঐক্য এর অন্যতম। প্রথম গোল করার পর এমবাপ্পে সোজা ছুটে যান ডাগআউটে। সেখানে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমকে।
কয়েক দিন আগেই মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেশে গিয়েছিলেন দেশম। এই ম্যাচেই তিনি প্রথমবার দলের সঙ্গে ফিরেছিলেন। পরে পুরো দল সেই উদ্যাপনে যোগ দেয়। দৃশ্যটি বুঝিয়ে দিয়েছে, এই ফ্রান্স শুধু তারকাদের দল নয়। একে অপরের জন্য লড়তে জানা একটি পরিবারও।
ম্যাচ শেষে দেশম জানান, দলীয় ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তার মতে, প্রতিভা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একে অপরের প্রতি বিশ্বাস না থাকলে বড় সাফল্য পাওয়া কঠিন।
মিডফিল্ডার অঁরেলিও চুয়ামেনি জানান, কঠিন সময় পার করা কোচের মুখে হাসি ফেরাতে খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এমবাপ্পে এখন দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। জোড়া গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে সমতায় উঠেছেন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপে তার মোট গোল এখন ১৮। যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল কম।
শুধু এমবাপ্পে নন, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলাও খেলছেন দুর্দান্ত। হ্যাটট্রিকসহ দেম্বেলের চার গোল ও দুটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি অলিসে টুর্নামেন্টে পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯৪ সালের পর এক বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি অ্যাসিস্ট করা প্রথম ফুটবলার এখন তিনি। অন্যদিকে দেম্বেলে ও এমবাপ্পের বোঝাপড়াও দারুণ। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো জুটি এত বেশি গোল তৈরিতে একে অপরকে সহায়তা করেনি।
ফ্রান্সের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব। ইয়ান রাইট, প্যাট্রিক ভিয়েরা ও গ্যারি নেভিলদের মত বিশ্লেষকদের মতে ফ্রান্সই এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। এমনকি সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারও এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের চেয়ে ভালো দল তিনি দেখেননি বলে জানিয়েছেন।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের আক্ষেপ ভুলতে পারেনি ফ্রান্স। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা। সামনে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে। তবে, বর্তমান ছন্দ দেখে একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসছে—এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে থামানোর মতো দল কি সত্যিই আছে?

স্পোর্টস ডেস্ক