সাম্বার ছন্দে ব্রাজিল, চ্যালেঞ্জে সামুরাই ব্লু
একসময় বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামা মানেই জাপানের জন্য ছিল কঠিন এক পরীক্ষা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সেই সমীকরণ। ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলে পরিণত হওয়া সামুরাই ব্লুর ফুটবলাররা এখন আর কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নামেন না। জয়ের বিশ্বাসও সঙ্গে নিয়ে নামেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে নকআউট লড়াইয়ে নামছে তারা।
আজ সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি।
দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালের ২২ জুন জার্মানির ডর্টমুন্ডে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ব্রাজিল ৪-১ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছিল। জোড়া গোল করেছিলেন রোনালদো। একটি করে গোল করেছিলেন জুনিনহো ও গিলবার্তো। জাপানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন কেইজি তামাদা। সেদিনের ব্রাজিল দলে ছিলেন রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, কাকা, কাফু ও রবার্তো কার্লোসের মতো কিংবদন্তিরা।
অন্যদিকে, জাপানের ভরসা ছিলেন হিদেতোশি নাকাতা, জুনিচি ইনামোতো ও শুনসুকে নাকামুরা। ফলাফলের মতোই দুই দলের সামর্থ্যের পার্থক্যও ছিল স্পষ্ট।
সেই সময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান ও আর্সেনালের মতো ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর নিয়মিত মুখ ছিলেন। বিপরীতে, জাপানের ২৩ সদস্যের দলে মাত্র ছয়জন ইউরোপে খেলতেন। বাকি ১৭ জন খেলতেন দেশের জে লিগে।
কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন জাপানের স্কোয়াডে ঘরোয়া লিগ থেকে জায়গা পেয়েছেন মাত্র তিনজন। চোটে কাওরু মিতোমা, ওয়াতারু এন্দো ও তাকুমি মিনামিনো না থাকলেও প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, সিরি আ, বুন্দেসলিগা, লিগ ওয়ান ও এরেডিভিসিতে খেলা ফুটবলারদের নিয়েই শক্তিশালী দল গড়েছে সামুরাই ব্লু।
ব্রাজিল এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল। তবে ২০০২ সালে পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তাদের। তবুও নেইমার, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসদের নিয়ে গড়া দলটি এখনও যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আগের মতো অপ্রতিরোধ্য না থাকায় ব্রাজিলকে হারানোর বিশ্বাসও বেড়েছে প্রতিপক্ষদের। সেই তালিকায় এখন জাপানও আছে।
সেই বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় ভিত্তি ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়। প্রীতি ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সেলেসাওদের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পায় জাপান। সেই ম্যাচ শুধু একটি ফল ছিল না। এটি ছিল জাপানের মানসিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করে ফিরে আসার সামর্থ্য যে তাদের আছে, সেটিও প্রমাণ করেছে সামুরাই ব্লু।
হিউস্টনের মাঠে তাই আজকের লড়াই শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচ নয়। এটি দুই দশকের পরিবর্তনেরও পরীক্ষা। ২০০৬ সালে যে জাপান ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল। ২০২৬ সালে সেই জাপানই নামছে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে, কিন্তু বর্তমান বলছে সামুরাই ব্লুকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

স্পোর্টস ডেস্ক