ইংল্যান্ডের লিড গুঁড়িয়ে দিয়ে ক্রোয়েশিয়ার দুর্দান্ত প্রতিরোধ
ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়ার এই ম্যাচকে বলা হচ্ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ। কেনো এটি বলা হচ্ছিল, তার প্রমাণ মিলল মাঠে। ম্যাচের শুরুতেই নাটকীয়ভাবে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধেই দুই দফা লিড নিল থ্রি-লায়ন্সরা। তবে সেটি ধরে রাখতে পারল না তারা। ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা নিয়েই বিরতিতে গেল ক্রোয়াটরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড আর ক্রোয়েশিয়া। প্রথমার্ধ শেষে ২-২ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে গেছে দুই দল।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ভুল করে বসেন দলের অভিজ্ঞ তারকা লুকা মদ্রিচ। বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সোজা আঘাত করেন ননি মাদুয়েকে কে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
সেই পেনাল্টিতেই ঘটে নাটকীয়তা। প্রথমবার নেওয়া হ্যারি কেইনের পেনাল্টি বাঁ-দিকে ঝাপিয় পড়ে দারুণভাবে আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডোমনিক লিভাকোভিচ।
পেনাল্টি আটকে দিয়ে ক্রোয়েশিয়া যখন উদযাপন করছে, তখনই ভিএআর রেফারি শরনাপন্ন হন মুল রেফারি। ভিএআর চেক চেক দ্বিতীয়বার পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
এবার আর কোনো ভুল করেননি হ্যারি কেইন। এবারও তিনি একই দিকে শট নেন। কিন্তু লিভাকোভিচ ঝাপিয়ে পড়েন উল্টো দিকে। বল জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড ফুটবল দল আর গ্যালারিতে থাকা সাদা সমুদ্র।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড। বল নিয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে দারুণ ক্রস বাড়ান তিনি। কিন্তু সেটাতে পা ছোঁয়াতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। মাঝ মাঠে দারুণ ট্যাকলে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠে ক্রোয়াটরা। ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন পিটার সুচিচ। সেখান থেকে ব্যাক পাস দেন বক্সের বাইরে থাকা মার্টিন বাটুরিনাকে।
বক্সের বাইরে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দেন বাটুরিনা। বলের নাগাল পেলেও গোলরক্ষক পিকফোর্ড সেটি আটকাতে পারেননি গতির কারণে।
ক্রোয়াটদের সেউ উল্লাস অবশ্য বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি হ্যারি কেইন। ৬ মিনিট পরই আবারও ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন দারুণ এক গোলে। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রোয়েশিয়ার দুজন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে মাথা ছুঁইয়ে জালে জড়িয়ে দেন কেইন।
যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। বক্সের মধ্যে লং বল থেকে বক্সের দারুণ হেডে পিটার মুসাকে পাস দেন ইভান পেরিশিচ। সেই বল পেয়ে বুলেট গতির ভলিতে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে দেন মুসা। শেষ মুহূর্তের গোলে সমতায় নিয়ে বিরতিতে যায় ক্রোয়েশিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক