ফুটবল আর সংস্কৃতির মিলনমেলা, টরন্টোতে বিশ্বকাপের জাঁকজমক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উত্তর আমেরিকাজুড়ে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে আয়োজক দেশগুলোর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে মেক্সিকো ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের পর্দা তুলেছে। এবার কানাডার পালা। আর নিজেদের প্রথম ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে বড়সড় আয়োজন সাজিয়েছে দেশটি।
টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে (বিশ্বকাপের জন্য যার নাম রাখা হয়েছে টরন্টো স্টেডিয়াম) বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা। ম্যাচটি শুধু গ্রুপপর্বের একটি লড়াই নয়, এটি কানাডার মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ ম্যাচ। তাই এই দিনটিকে ঘিরে উচ্ছ্বাস আর আবেগ দুই-ই তুঙ্গে।
খেলা শুরুর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে বর্ণিল প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠান। ফিফার পরিকল্পনায় কানাডার সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরা হবে বিশ্বের সামনে। মাঠে বল গড়ানোর আগেই দর্শকরা উপভোগ করবেন এক জমকালো আয়োজন।
এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মাইকেল বুবলে। পাঁচবারের গ্র্যামি জয়ী এই শিল্পী কানাডার অন্যতম পরিচিত মুখ। বিশ্বকে টরন্টোয় স্বাগত জানানোর আয়োজনে তিনিই থাকছেন কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
বুবলের সঙ্গে থাকছেন কানাডার আরেক বিশ্বখ্যাত শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট। সাতবারের গ্র্যামি জয়ী এই গায়িকা ম্যাচের আগে পরিবেশন করবেন কানাডার জাতীয় সঙ্গীত। আয়োজকদের বিশ্বাস, তার কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত স্টেডিয়ামের আবহকে আরও আবেগঘন করে তুলবে।
শুধু এই দুই তারকাই নন, উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেবেন অ্যালেসিয়া কারা, জেসি রেয়েজ, উইলিয়াম প্রিন্স, নোরা ফাতেহি, এলিয়ানা, ভেজেড্রিম এবং ডিজে সঞ্জয়। এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী উইল আর্নেট।
বৈচিত্র্যময় এই শিল্পী তালিকাই যেন কানাডার পরিচয় বহন করছে। নানা সংস্কৃতি ও ভিন্ন ভিন্ন শেকড় থেকে উঠে আসা শিল্পীদের এক মঞ্চে এনে দেশটি বিশ্বকে জানাতে চায় ঐক্য আর বহুত্ববাদের বার্তা। তাই কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ম্যাচটি শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, বরং একটি দেশের সংস্কৃতি, আবেগ ও ইতিহাসকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরারও উপলক্ষ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক