বিশ্বকাপের বাকি ৭ দিন
টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য কীর্তি
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ফুটবলপ্রেমীদের মনে নকআউট পর্বের স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শুটআউট বা টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর সব স্মৃতি উঁকি দিচ্ছে।
আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে টাইব্রেকার মানেই যেন আর্জেন্টিনার রাজত্ব। বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি শুটআউটে অংশ নেওয়া এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ডটি এককভাবে ধরে রেখেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে প্রথম টাইব্রেকার প্রথা চালু হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে ৭৪টি দেশ অংশ নিলেও টাইব্রেকারের সবচেয়ে বড় অংশীদার আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭টি টাইব্রেকারে অংশ নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাদের দখলে।
শতাংশের হিসাবে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট যতবার টাইব্রেকার হয়েছে, তার প্রায় ২০ শতাংশ ম্যাচেই জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার নাম। এই তালিকায় আর্জেন্টিনার পরে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল, ফ্রান্স ও স্পেন। তারা প্রত্যেকে ৫টি করে টাইব্রেকারে অংশ নিয়েছে।
টাইব্রেকারে পেনাল্টি শুটআউটের চরম মানসিক চাপের মুহূর্তে আর্জেন্টিনার সাফল্য এক কথায় অসাধারণ। ৭টি টাইব্রেকারের মধ্যে ৬টিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
আর্জেন্টিনা প্রথম টাইব্রেকারে অংশ নেয় ১৯৯০ বিশ্বকাপে। সেবার যুগোস্লাভিয়া ও ইতালিকে হারায় তারা। এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেরা টাইব্রেকারে হারায় ইংল্যান্ডকে। পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০২২ দুই বিশ্বকাপেই হারায় নেদারল্যান্ডসকে। ২০২২ বিশ্বকাপে তো এই টাইব্রেকার থেকে মহাকাব্যই লিখে ফেলে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর শিরোপার দেখা যায় তারা।
বিশ্বকাপের টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার একমাত্র পরাজয়টি এসেছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচে স্বাগতিক জার্মানির কাছে হেরেছিল আকাশী-নীল জার্সিধারীরা।
সেবার টাইব্রেকারে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স জার্মান গোলরক্ষক জেনস লেহম্যান। ম্যাচ চলাকালীন মোজার ভেতর লুকিয়ে রাখা এক টুকরো কাগজে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের পেনাল্টি মারার কৌশল দেখে নিয়ে বাজিমাত করেছিলেন এই গোলকিপার।
১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার মূল নায়ক ছিলেন তাদের বিকল্প গোলরক্ষক সার্জিও গোয়কোচিয়া। বিশ্বকাপের শুটআউটগুলোতে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি সেভ করার এক অনন্য রেকর্ড নিজের করে রেখেছেন তিনি। এই রেকর্ডে গোয়কোচিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন পশ্চিম জার্মানির টনি শুমাখার এবং ক্রোয়েশিয়ার দুই তারকা দানিয়েল সুবাসিচ ও ডোমিনিক লিভাকোভিচ।
১৯৯০ সালের ৩ জুলাই নেপলসের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে রবার্তো ডোনাডোনির পেনাল্টি শটটি দুর্দান্তভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করেছিলেন গোয়কোচিয়া। সেই ম্যাচে ইতালিকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতলেও টাইব্রেকারে শতভাগ সফলতার রেকর্ড রয়েছে জার্মানি এবং ক্রোয়েশিয়ার দখলে। বিশ্বকাপে এই দুটি দল এখন পর্যন্ত যে কয়টি টাইব্রেকারে অংশ নিয়েছে, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছে তারা। বিশেষ করে জার্মানরা টাইব্রেকারে নেওয়া ১৮টি পেনাল্টির মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে ১৭টিতেই গোল করেছে।

স্পোর্টস ডেস্ক