বিশ্বকাপের দল ঘোষণাতে অনন্য হলান্ডরা!
ইউরোপের দেশ নরওয়ে শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছে দুই যুগেরও বেশি সময় আগে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে তাদের। আর এটি হয়েছেও মনে রাখার মতো। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট রীতিমতো তছনছ করে দিয়েছে।
বাছাইয়ের ৮ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে নরওয়ে। এই ৮ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে গোল উৎসব করেছে মোট ৩৭ বার! আর এই ঐতিহাসিক ফিরে আসাকে স্মরণীয় করে রাখতে কোনো কমতি রাখেনি নরওয়ে।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাওয়ার এই ক্ষণটিকে রাজকীয় রূপ দিয়েছে দেশটি। বিশ্বকাপের জন্য নরওয়ের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন স্বয়ং দেশটির রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড! আগে থেকে রেকর্ড করা এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফুটবলারদের নাম ঘোষণা করেন তিনি।
নরওয়ের এই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে প্রত্যাশিতভাবেই জায়গা করে নিয়েছেন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই তারকা— ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড এবং আর্সেনালের মিডফিল্ড তারকা মার্টিন ওডেগার্ড।
নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপে দলটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব থাকছে ওডেগার্ডের কাঁধেই। এ ছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুলহামের উইঙ্গার অস্কার বব এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের ফরোয়ার্ড জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনও রয়েছেন এই দলে।
এবারের নরওয়ে স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হলেন জার্মান ক্লাব হ্যামবার্গের গোলরক্ষক স্যান্ডার টাংভিক। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক না হওয়া এই গোলরক্ষক সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেছেন।
মূলত এসকে ব্র্যান ক্লাবের গোলরক্ষক মাথিয়াস ডিঙ্গেলান্ড ইনজুরিতে পড়ায় ভাগ্য খুলে যায় টাংভিকের। রাজার চূড়ান্ত করা তালিকায় চলে আসে তার নাম।
এদিকে, হঠাৎ করে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়ে নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না ডার্বি কাউন্টির ডিফেন্ডার সন্ড্রে লাঙ্গাস। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘এনআরকে’-কে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে আমি বিশ্বকাপ দলে আছি। সত্যি বলতে, এক সেকেন্ডের জন্যও রাজার ঘোষণার ওপর আমার ভরসা হচ্ছিল না!’
নরওয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৩৮ সালে, সেবার তারা শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর নব্বইয়ের দশকে ধারাবাহিকভাবে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয় তারা। ৯৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও, নিজেদের সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের আসরে তারা খেলেছিল শেষ ষোলোতে।
আসন্ন বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে লড়বে নরওয়ে। আগামী ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বাকি দুই প্রতিপক্ষ সেনেগাল ও বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স।
নরওয়ের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার : ওরিয়ান হাস্কজোল্ড হাইলান্ড, এগিল সেলভিক, স্যান্ডার টাংভিক।
ডিফেন্ডার: জুলিয়ান রিয়ারসন, মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেন, ডেভিড মলার উলফ, ফ্রেডরিক বিয়র্কান, ক্রিস্টোফার আয়ের, তরবিয়র্ন হেগেম, লিও স্কিরি অস্টিগার্ড, সন্ড্রে লাঙ্গাস, হেনরিক ফালচেনার।
মিডফিল্ডার : মার্টিন ওডেগার্ড, সান্ডার বার্গ, ফ্রেডরিক আরসনেস, প্যাট্রিক বার্গ, ক্রিস্টিয়ান থর্স্টভেডট, মর্টেন থর্সবি, থেলো আসগার্ড।
ফরোয়ার্ড : আর্লিং হলান্ড, আলেকজান্ডার সরলথ, জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন, আন্তোনিও নুসা, অস্কার বব, আন্দ্রেয়াস শ্জেল্ডারুপ, জেনস পেটার হাউজ।

স্পোর্টস ডেস্ক