ঢাকা ডার্বিতে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী
দেশের ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডানের লড়াই মানেই টানটান উত্তেজনা। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সেই চিরচেনা ‘ঢাকা ডার্বি’তেও দেখা গেলো তেমন কিছুই। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী।
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে আকাশী-নীল জার্সিধারীরা। এই জয়ের মাধ্যমে লিগে দীর্ঘ তিন বছর পর মোহামেডানের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল আবাহনী।
এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে আবাহনী। অন্যদিকে, টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন থাকা মোহামেডান ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাতে নেমে গেছে। এক ম্যাচ কম খেলা বসুন্ধরা কিংস ২৪ পয়েন্ট নিয়ে এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
লিগে সময়টা ভালো না গেলেও এদিন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে মোহামেডানের ম্যাচের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। ম্যাচের শুরুতেই এক অবিশ্বাস্য গোলে লিড নেয় মোহামেডান।
খেলার তৃতীয় মিনিটে বাম দিক থেকে মোজাফ্ফরভের নেওয়া কর্নার কিক সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়, ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অলিম্পিক গোল’। শুরুতে লিড নিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে মোহামেডান। তবে তাদের সেই আত্মবিশ্বাস বেশি সময় স্থায়ী হতে দেয়নি আবাহনী।
পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে আবাহনী। ১৭ মিনিটে সফলও হয় তারা। এমেকা ওগবাহর পাসে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান তরুণ ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলাম। প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সতর্ক হয়ে খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে একসময়ের ঘরের ছেলে সুলেমান দিয়াবাতের গোলেই কপাল পোড়ে মোহামেডানের। একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এমেকা পাস বাড়ান দিয়াবাতেকে। ছোট বক্সের উপর প্রথম প্রচেষ্টায় বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শরীর ঘুরিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান মালির এই ফরোয়ার্ড।
মজার ব্যাপার হলো, সাবেক ক্লাব মোহামেডানের বিপক্ষে গোল করায় কোনো উদযাপন করেননি মালির এই তারকা ফরোয়ার্ড।
এরপর আরও কিছু আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ করেছে দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হয়। কিন্তু খেলার গতির কারণে সেটিও পৌঁছায় ১২ মিনিটে। অবশ্য তবুও জাল খুঁজে পায়নি কোনো দল।

স্পোর্টস ডেস্ক