নিয়মরক্ষার হলেও সিঙ্গাপুর ম্যাচ কেন গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের কাছে?
এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়েছে আগেই। এক বছর আগে অবশ্য স্বপ্নটুকুও দেখত না বাংলাদেশ। জীর্ণশীর্ণ ফুটবলে কিছুই ছিল না। খেলতে হয়, সেই কারণে খেলতেন ফুটবলাররা। ফল, ভবিষ্যৎ এসব নিয়ে ভাববার মতো কেউ ছিল নো যেন। এরপর এলেন হামজা চৌধুরী। ভোজবাজির মতো পালটে গেল সব। ফুটবল হয়ে উঠল ‘টক অব দ্য কান্ট্রি।’
হামজা আসার পর আর পিছু ফিরতে হয়নি ফুটবলকে। হারানো জৌলুস, মাঠভর্তি দর্শক, স্পন্সর—ফুটবল কেড়ে নিয়েছে সব আলো। এতটাই যে, ম্লান হয়েছে ক্রিকেট পর্যন্ত। হামজার দেখানো পথে হেঁটে একে একে এলেন শমিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদরা। ফুটবল আরও আলোকিত হলো।
এতকিছু হচ্ছে, মাঠে ফল আসছে? এশিয়ান কাপে গত এক বছরে পাঁচটি ম্যাচে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। একটি জয়ের বিপরীতে দুটি করে ড্র ও হার। কিন্তু গোটা দেশ জানে, এই সময়ে ফুটবল কতটা উন্নতি করেছে। আগামীতে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে যে স্বপ্নের বীজ বুনছে ভক্তরা, আজকের দলটা তারই ভিত গড়ে দিয়ে যাচ্ছে।
এশিয়ান কাপের একটি জয় এসেছে ভারতের বিপক্ষে। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো গেল। ড্র করেছে শক্তিশালী হংকংয়ের সঙ্গে। প্রথম লেগের ম্যাচে ভারতকে তাদের মাঠেই রুখে দিয়ে ড্র তুলে নেয় বাংলাদেশ। যেটি ছিল জাতীয় দলে হামজার অভিষেক ম্যাচ।
এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা, এশিয়ান কাপে আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ? সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি ঘিরে দর্শকেরও আগ্রহের কমতি নেই। ভিনদেশে ফুটবলারদের সমর্থন দিতে মাঠে অনুশীলনে হাজির ভক্তরা। হামজা-শমিতরাও জানালেন, ঘরের মাঠের মতোই মনে হচ্ছে। দর্শকের জন্য তো বটেই, ফুটবলের জোয়ার জিইয়ে রাখতেও জয়ের বিকল্প নেই।
এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ কখনও দুটি জয় পায়নি। ১৯৮০ সালে মূলপর্বে খেলা দলটিও বাছাইয়ে জিতেছিল কেবল এক ম্যাচ। এবার সেটি ছাপিয়ে যাওয়ার পালা। ইতোমধ্যে জামাল-হামজাদের দলটি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তবু, পরিসংখ্যানকে পক্ষে রাখলে ক্ষতি কী! আত্মবিশ্বাসের একটা ব্যাপার আছে।
ফুটবলের নবজাগরণের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট তো এই বাছাইপর্ব। এখানে শেষটা সুন্দরভাবে রাঙালে সামনের দিনগুলোতে ভালো করার ক্ষুধা বজায় থাকবে। শেষ থেকে নতুন শুরু হওয়ার দরজা খুলবে। সবাই জানে–শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।

স্পোর্টস ডেস্ক