ঋতুপর্ণা-আফঈদাদের সাহসী ফুটবলে দাপুটে লড়াই
এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত ‘নারী এশিয়ান কাপের’ মঞ্চে প্রথমবার বাংলাদেশ। সেখানেই পরীক্ষাটা অনেক বড়। লড়াই করতে হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে। মাঠে নামার আগে বলা হচ্ছিল লড়াইটা ‘অসম’। বলা হবেই বা না কেন? কাগজে-কলমের হিসাবকে তো আর অস্বীকার করা যায় না!
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের পার্থক্য ৯৫, চীন আছে ১৭তম স্থানে আর বাংলাদেশের অবস্থান ১১২তম। এশিয়ান কাপে চীনের দাপট অনেক পুরোনো। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। দলটি বিশ্বকাপেও খেলে নিয়মিত। স্বাভাবিকভাবেই তাই বলা হচ্ছিল, এই ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য– কতটা কম গোল হজম করা যায় সেটাই।
তবে বাংলাদেশের ডাই-হার্ড ফ্যানদের মনে হয়তো একটু আশার প্রদীপ দেখা দিয়েছিল। যদি ‘মিরাকল’ কিছু হয়ে যায় আর বাংলার বাঘিনীরা ‘রূপকথার গল্প’ লিখে ফেলে। কারণ, এই গল্প রচনা করেই তো এখানে এসেছে তারা। বাছাইপর্বেও হারিয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক অনেক এগিয়ে থাকা দলগুলোকে।
মাঠের বাইরের এতো আলোচনাকে অবশ্য খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি বাংলাদেশ। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেছিলেন, চীনকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নয়, স্রেফ একটা প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখতে চায় বাংলাদেশ।
আফঈদা বলেন, ‘আমরা কোনো চাপ নিচ্ছি না। আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, দেশের মানুষের জন্য খেলছি। আমরা এখানে এসেছি খেলাটা উপভোগ করতে। মাঠে নামলে আমরা তাদের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখব না, বরং আমাদের নিজেদের খেলাটা খেলব এবং সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
মাঠের খেলায়ও সেটি করে দেখালেন তারা। বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের অধীনে যে, সত্যি সত্যি বদলে গেছে বাংলাদেশ, সেটি আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন। পুরো ম্যাচে চীনের বিপক্ষে লড়াই করল চোখে চোখ রেখে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের সঙ্গে দুই অর্ধে যোগ করা হয়েছিল ১৫ মিনিট। সবমিলিয়ে ১০৫ মিনিট মাঠে খেলেছেন ফুটবলাররা। এই সময়ের মধ্যে ৩ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করা বাদ দিলে পুরো সময়টাতেই দারুণ লড়াইয়ের মানসিকতা দেখা গেছে মেয়েদের।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে নেওয়া ঋতুপর্ণার সেই শট তো অনেকদিন ভুলতে পারবে না বাংলার ফুটবলপ্রেমিরা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট কোনোমতে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেছিলেন চীনের গোলরক্ষক।
ফুটবলপ্রেমিদের চোখে লেগে থাকবে জাতীয় দলের জার্সিতে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচে গোলবারের নিচে দাঁড়ানো মিলি আক্তারের পারফর্ম্যান্সের কথাও। দারুন সব সেভ করে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি। হতাশ করেছেন চীনের ফুটবলারদের।
বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছে স্বয়ং চীনের ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের ডাগআউটে এসে পুরো দল জানিয়ে গেছে সম্মান।
১২০ গজের সবুজ মাঠে এমন ক্ষুরধার পারফরম্যান্সের পর প্রশংসায় ভাসছেন ফুটবলাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে প্রশংসার ঝড়। মাঠের খেলায় চীনের কাছে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের ব্যবধানে হারলেও ফুটবলপ্রেমিদের মন জয় করে নিয়েছেন ফুটবলাররা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক