এবার ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’র মুখে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা
ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর আসন্ন নিলামের আগে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আইপিএল মালিকানাধীন দলগুলো এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের দলে নিতে আগ্রহী নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমানে দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টের আটটি দলের মধ্যে চারটির মালিকানায় রয়েছে ভারতের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এর মধ্যে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, লখনৌ সুপার জায়ান্টস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও দিল্লি ক্যাপিটালসের মালিকরা দল কিনেছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইপিএল সংশ্লিষ্ট দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এড়িয়ে চলার কৌশল নিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এটি অনেকটা ‘অঘোষিত নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ এবং আমিরাতের আইএল টি-২০ লিগেও (যেখানে ভারতীয় মালিকানা আছে) কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে দেখা যায়নি।
যদিও ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, খেলোয়াড় নির্বাচনে কোনো দেশের প্রতি বৈষম্য করা হবে না। ইসিবির এক মুখপাত্র বলেন, ‘দ্য হান্ড্রেড সব দেশের খেলোয়াড়দের জন্য উন্মুক্ত। এবার ১ হাজারেরও বেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে পাকিস্তানের আছেন ৫০ জন।’
তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গত বছর ইমাদ ওয়াসিম ও মোহাম্মদ আমির খেললেও এবার তাদের দল পাওয়া নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে। অতীতে শাহিন আফ্রিদি ও হারিস রউফের মতো তারকারা এই টুর্নামেন্টে মাঠ মাতিয়েছেন।
পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ রিজওয়ানরা এবারও নিলামে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু দলগুলোর মালিকানায় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আধিপত্য থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত কোনো দল পাবেন কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়া হয়, তবে তা বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে।

স্পোর্টস ডেস্ক