বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটারদের : ড. আসিফ নজরুল
বাংলাদেশকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির মুখে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয় ভারত। এরপর নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের আবেদন ছিল ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের আবেদনের উত্তরে আইসিসি জানায়, ভারতে বাংলাদেশের কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। ফলে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে তারা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ জানায় আইসিসি।
সে সময় ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা—এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।’
তবে এবার ভিন্ন কথা বললেন আসিফ নজরুল। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রশ্নের উত্তরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা, প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে দেশের ক্রিকেটের, ক্রিকেটারদের, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে …আমার মনে হয় যে একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
গণমাধ্যমের খবর ছিল, বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশকে বড় ধরনের শাস্তি দিতে যাচ্ছে আইসিসি। তবে তেমন কিছুই হচ্ছে না। পাকিস্তানের লাহোরে বিসিবি, পিসিবি ও আইসিসির মধ্যকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বরং পুরস্কারই পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ।
এটাকে বিসিবির কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। আসিফ নজরুল বলেন, ‘দেখেন, তারা যে ক্রিকেট কূটনীতিটা করেছে, আল্টিমেটলি এখন আইসিসি বলছে, আমাদেরকে কোনোরকম শাস্তি-টাস্তি তারা দেবে না, বরং একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক তারা করবে। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট, স্যালুট টু দ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই এটিই নেওয়া উচিত।’

স্পোর্টস ডেস্ক