৮৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে রেনাটা লিমিটেড
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের কোম্পানি রেনাটা লিমিটেড ৩৫০ কোটি টাকার অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ও ৫০০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব মিলিয়ে বন্ড ও শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানিটি ৮৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করবে কোম্পানিটি। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ।
সিদ্ধান্ত অনুসারে, বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে ৩৫০ কোটি টাকার অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করা হবে। পাশাপাশি ৫০০ কোটি টাকা জিরো কুপন বন্ডটি বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ইস্যু করা হবে।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬২ দশমিক পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে রেনাটার পর্ষদ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬৬ টাকা ৮৭ পয়সা।
এদিকে কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে এজিএম আহ্বান করা হয়েছে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১২ নভেম্বর।
গতকাল অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৯৪৪ কোটি টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৮৩৭ কোটি টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ১২৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১০ টাকা ৮৬ পয়সা।
জানতে চাইলে রেনাটা বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব মো. জুবায়ের আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঋণ পরিশোধের জন্য আমরা বন্ড ও অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করতে চাইছি। এর মাধ্যমে আমাদের আর্থিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য আসবে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবের কারণে সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে আমাদের নিট মুনাফা কমে গেছে। তবে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে আমরা অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’

নিজস্ব প্রতিবেদক