এইউএসটিতে ‘উচ্ছ্বাসে স্পন্দন’ সিজন ২, মাতাল কাকতালের গানে
আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইউএসটি) ক্যাম্পাসে হয়ে গেল জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘উচ্ছ্বাসে স্পন্দন’ সিজন ২। এইউএসটি কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
তিন দিনের আয়োজন সাজানো হয়েছিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও কনসার্ট দিয়ে। প্রথম দিন ছিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। দ্বিতীয় দিনে পাঁচটি বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সমাপনী দিনের কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘কাকতাল’। তাদের পরিবেশনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জমে ওঠে পুরো আয়োজন।
‘উচ্ছ্বাসে স্পন্দন’ সিজন ২-এর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে নৃত্য, সংগীত, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ—এই পাঁচ বিভাগে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, হলিক্রস কলেজ ও ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আয়োজনের বিষয়ে এইউএসটি কালচারাল ক্লাবের সভাপতি ও চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজের চ্যাম্পিয়ন নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা বলেন, “‘উচ্ছ্বাসে স্পন্দন’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার নাম নয়; এটি আমাদের কাছে একটি স্বপ্ন, একটি অনুভূতি এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করার ছোট্ট প্রয়াস। ছোটবেলা থেকেই গান গাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ এই আয়োজন। এত বড় একটি আয়োজন কখনোই সম্ভব হতো না, যদি আমার ক্লাবের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ না করত। এ জন্য এইউএসটি কালচারাল ক্লাবের সব সদস্যের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
এই আয়োজন বাস্তবায়নে ক্লাবটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক অভিষেক আলম, সহসভাপতি আবেদ আল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাসিন রহমান ও মাহনাজ খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল। এ ছাড়া মন্ময়, মাটি, শিহাব, দোলা, জাসেম, অভিক, সিফাত, নাইম, সাদ, মোস্তাকিমসহ আরও অনেকে আয়োজনে যুক্ত ছিলেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, তরুণদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই ‘উচ্ছ্বাসে স্পন্দন’-এর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে সাংস্কৃতিক চর্চা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতেও এই আয়োজন ভূমিকা রাখছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক