ক্যাটালগ ঘোষণায় ১৭ টন সন্দেহজনক পণ্য
চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনারে ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কায়িক পরীক্ষায় ওই চালান থেকে ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক পণ্য এবং ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া পেল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কাগজপত্রে চালানটির আমদানিকারক হিসেবে অথয় এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির মালিক জানান, এই আমদানির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, ডিএফএসইউ৬৭৫৩৮৪৯ নম্বরের কনটেইনারটি কলকাতা থেকে এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। গত ২২ সেপ্টেম্বর জাহাজটি বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বিএলের অধীনে দুটি হাউজ বিএলের পণ্য আমদানির তথ্য দেওয়া হয়।
প্রথম বিএল পণ্য হিসেবে পান মসলা এবং জর্দা উল্লেখ করা হয়। এতে ৪৭৩ প্যাকেজে ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্য থাকার কথা বলা হয়। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ পণ্য পাওয়া যায়।
এসব পণ্যের মধ্যে গাঢ় বাদামি, বাদামি, ধূসর ও সাদা রঙের বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ছিল। এর মধ্যে কিছু পাউডারজাত পদার্থ বাইরে থেকে মাদকসদৃশ মনে হয়েছে। তবে এগুলো আসলে মাদক বা কোনো নিষিদ্ধ পদার্থ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ জন্য নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় বিএলের পণ্য হিসেবে মুদ্রিত কাগজের ক্যাটালগ ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি পণ্য থাকার কথা বলা হয়। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় এসব প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়। দুটি চালান মিলিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৪০টি প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন পণ্য পেয়েছেন।
এদিকে অথয় এন্টারপ্রাইজের মালিক লিখিতভাবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান এই চালান আমদানির সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে থাকতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক কারা, প্রতিষ্ঠানের তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা পণ্যের প্রকৃত পরিচয় কী—এসব বিষয় তদন্ত ও পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক