দেশি ফলে হাত দেওয়ার উপায় নেই, দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পেয়ারা-বরই-আনারস
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই ঝিনাইদহের বাজারে দেশি ও বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিদেশি ফলের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। একই চিত্র দেশি ফলের বাজারেও; বিশেষ করে পেয়ারা, বরই ও আনারসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ফল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শহরের পায়রা চত্বরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস আনারস এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি পেয়ারা ১২০ টাকা, আপেল ও বলসুন্দরী বরই ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ছফেদা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া তরমুজ এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় ঠেকেছে। এছাড়া ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে উৎপাদিত ড্রাগন ফল কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিদেশি ফলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ও ভারতীয় আপেল ৩৯০ থেকে ৪২০ টাকা, মাল্টা ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, বেদানা ৫৬০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং আঙুর ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি আড়তগুলো থেকে দাম বাড়ানো হচ্ছে। ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম জানান, আড়ত থেকে চড়া দামে ফল কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারে সামান্য লাভে বিক্রি করতে তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন। তবে শরিফ হোসেন নামে আরেক বিক্রেতার দাবি, অন্যবারের তুলনায় এবার দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে।
এদিকে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। নাজনীন নাহার রিক্তা নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানে দাম কমলেও আমাদের দেশে ঠিক উল্টো। যে পেয়ারা অন্য সময় ৫০ থেকে ৬০ টাকা থাকে, তা এখন ১০০ টাকার ওপরে।’ আকরাম হোসেন নামে আরেক ক্রেতা বর্তমান সরকারের কাছে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের জানান, বাজার মনিটরিং চলছে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত কাজ করছে। রমজানে ফলের দাম মানুষের নাগালে রাখতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

মনজুরুল আহসান, ঝিনাইদহ (সদর-কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর)