সাভারে ৩ শ্রমিক নেতা আটক, ৩ মামলায় আসামি ২৩০০
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ, অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বাতিলের ৩ দফা দাবিতে ৬ষ্ঠ দিনের মতো অস্থিরতা বিরাজ করছে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া ও সাভারে। আশুলিয়ায় প্রথমে কর্মবিরতি পরে তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় সড়কে নেমে এসেছেন শ্রমিকরা। হাজার হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে আসায় বন্ধ রয়েছে বাইপাইল আব্দুল্লাহপুর বাইপাইল মহাসড়কে যান চলাচল।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জল কামানসহ এপিসি।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, দাবি আদায়ের আশুলিয়ায় পাঁচটি কারখানায় প্রথমে শুরু হয় কর্মবিরতি। পরে আটটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা কাজ বন্ধের দাবিতে অন্যান্য কারখানার সামনে গেলে পর্যায়ক্রমে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। দিনভর স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে বিভিন্ন কারখানার সামনে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্য তৈরিতে পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত।
গতকাল পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনায় সাভারের শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। বন্ধ রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানা। অপরদিকে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে তিন শ্রমিক নেতাকে।
তারা হলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম (৪৮), জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম (৩৭) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী (৪৬)।
সাভার ও আশুলিয়া থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ জনকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে ১৩ জনকে।

জাহিদুর রহমান