জীবন হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
কেরানীগঞ্জে জীবন হত্যা মামলায় চার আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসেন এ রায় দেন।
আদালতের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি (পিপি) আশরাফুল আলম এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আশরাফুল আলম বলেন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আসামিরা হলেন—মো. আরমান, মো. কাউসার, মো. জুয়েল ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে খলিল। এরমধ্যে সব আসামি পলাতক রয়েছেন।
পিপি বলেন, বিচারক রায়ে প্রত্যেক আসামিকে একলাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন এবং অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ঢাকা জেলার গেন্ডারিয়া ও সূত্রাপুর থানা এলাকার অন্তর্গত লোহারপুলের কাছে সাদি নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাড়িতে মো. আলম ও মোছা. শমিরন (যিনি ছাবু বেগম নামেও পরিচিত) বসবাস করতেন। তাদের ছেলে জীবন (নিহত) হন। আসামি মো. কাউসার, আরমান, জুয়েল ও রাজন একে অপরের পরিচিত ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে সময় কাটাত এবং বিভিন্ন স্থানে বসে মাদক সেবন করত।
ঘটনার প্রায় দেড় বছর আগে আসিামি জুয়েল পায়েলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। পায়েল একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। এ কারণে জীবন ও তার বন্ধুরা প্রায়ই জুয়েলকে নিয়ে উপহাস করত এবং তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে বিয়ে করার জন্য তাকে বিদ্রূপ করত। জুয়েল এর প্রতিবাদ করলে জীবন ও তার বন্ধুরা তাকে, পায়েল এবং রাজনের ওপর হামলা চালায়।
এরপর জুয়েলের প্ররোচনায় অভিযুক্ত কাউসার ও আরমান ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ভুক্তভোগী জীবনকে মুসলিমনগরের কানাপট্টি এলাকায় মজিবর হাজির দোকানের সামনে ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে জীবন ও জুয়েলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আরমান জীবনকে জাপটে ধরে, কাউসার তার বুকে ঘুষি মারে এবং খলিল একটি ‘চাপাতি’ (ভারী ধারালো অস্ত্র) দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে জীবন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তারা তাকে চেপে ধরে রাখে। এরপর জুয়েল ও রাজন একটি রেজার বা ব্লেড দিয়ে জীবনের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। জীবন সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকে। ফলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার খবর পাওয়ার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সেখানে জীবনকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি জীবনকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভুক্তভোগী জীবন নিজের নাম ও ঠিকানা জানানোর পরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস সালাম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট বা এফআইআর) দায়ের করেন। এজাহার পাওয়ার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারার সঙ্গে ৩৪ ধারা যুক্ত করে অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলাটি নথিভুক্ত করেন।

আদালত প্রতিবেদক