শকুনি লেক বাঁচাতে সুধী সমাজের মতবিনিময় সভা
একসময় জেলা শহরের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক ছিল ঐতিহ্যবাহী শকুনি লেক। বিকেল হলেই লেকপাড়ে জমতো মানুষের আড্ডা, দূর-দূরান্ত থেকে আসতেন দর্শনার্থীরা। তবে নানা অব্যবস্থাপনা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে লেকটির নান্দনিকতা ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
এ অবস্থায় শকুনি লেকের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় একত্র হয়েছেন সাংবাদিক, সুধী সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকেরা।
এ উপলক্ষে মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কার্যালয়ে সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শকুনি লেকের বর্তমান অবস্থা, পরিবেশদূষণ, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং লেকপাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একই সঙ্গে লেকের জায়গা দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, শকুনি লেক কেবল একটি জলাশয় নয়; এটি মাদারীপুরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, বরং লেকপাড়ের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থীসহ সব নাগরিকের।
লেকের ভেতরে ও পাড়ে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করে—এমন স্থাপনা ও কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় অংশ নেওয়া সচেতন নাগরিকদের প্রতিনিধিরা বলেন, শকুনি লেক রক্ষায় শুধু আলোচনা নয়, প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও ধারাবাহিক উদ্যোগ।
এজন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো এবং পরিবেশদূষণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি লেকের জায়গা দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক ডা. গোলাম সরোয়ার, মাদারীপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ, মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলাল রিজভী, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ, বাইজিদ মিয়াসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)