প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার দূরদর্শী প্রতিফলন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সফলভাবে যোগদান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি সম্পন্ন করে দেশের পথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের বাংলায় প্রথম ভাষণ প্রদান। তিনি তার ভাষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের কথা তুলে ধরেন। গণতান্ত্রিক ধারা পুনর্প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে তার সরকারের ‘৩-আর’ (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের কথা বিশ্বমঞ্চে ঘোষণা করেন। ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ও পরিবেশ এবং প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক শান্তি নিয়েও কথা বলেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করেছেন বাংলাদেশের চারজন বিশেষজ্ঞ।
জাতীয় অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রেক্ষাপট ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণে ক্ষতবিক্ষত, বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে দেশের অর্থনীতি চরমভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে টেনে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছেন, সেই কথাই তিনি বিশ্ব সভাকে অবহিত করেছেন।
থ্রি-আর কৌশলের তিনটি স্তম্ভ হলো পুনরুদ্ধার (রিকভারি), সংস্কার (রিস্টোরেশন) ও পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন)। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সমর্থনে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন এই কৌশল তৈরি করেছে। তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুহূর্তে দেশকে আবার সক্রিয় গতিতে চলার উপযোগী করার জন্য তিন ধাপের এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে তিনি বিশ্ববাসীকে সেই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার এক তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন।
মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ভাষণ একদিকে যেমন বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন ও বহুপাক্ষিকতার বৈশ্বিক দাবিগুলোকে ধারণ করেছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
ঢাবি শিক্ষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণে বৈশ্বিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, পানি বণ্টন ও জনগণের ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
একটি পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বিরল ও ঐতিহাসিক ঘটনা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবদানের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে এগিয়ে নেবেন-এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বৈশ্বিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নাম উল্লেখ করে নিন্দা না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মারুফ কামাল খান বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলিষ্ঠ, তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর ব্যঞ্জনাময় যে ভাষণ দিয়েছেন তা’ আমার বিবেচনায় বিরলপ্রজ।
ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালাবসানের অন্যতম অগ্রনায়ক হিসেবে তিনি জনগণের অফুরন্ত সমর্থনধন্য ও নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজ দেশের জনগণের কণ্ঠস্বর, প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষারই প্রতিধ্বনি করেছেন। যাদের পেছনে গণমানুষের সমর্থন নেই কিংবা যারা সঠিকভাবে জননির্বাচিত নয়, তারা তা পারে না। অতীত সাক্ষ্য দেয়, স্বৈরশাসনের অহম ও আত্মপ্রচারণা আমাদের স্মৃতিকে কীভাবে পীড়িত করেছিল।
তারেক রহমান তার পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেওয়ার এক বিরল ও দুর্লভ সুযোগ অর্জন করেছেন। এটা কোনও রাজতান্ত্রিক ধারা নয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে তিনি অধিকারী হয়েছেন এ সৌভাগ্যের।
যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মারণাস্ত্রের ঝনৎকার, হানাহানিতে ক্লিষ্ট ও রক্তপাতে সিক্ত সময়ে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন, ‘মারণাস্ত্রে নয়, বিশ্ব বদলাবে মানবতায়।’ মানবতার এ আহ্বানের মধ্য দিয়ে ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দুনিয়ায় নিজেকে তাঁর শহীদ পিতার মতো শান্তির দিশারী রূপে তুলে ধরেছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক